অভিশপ্ত স্মৃতি উস্কে ভাইজাগে ওষুধ কারখানায় ফের গ্যাস লিক, মৃত ২

অভিশপ্ত স্মৃতি উস্কে ভাইজাগে ওষুধ কারখানায় ফের গ্যাস লিক, মৃত ২
অভিশপ্ত স্মৃতি উস্কে ভাইজাগে ওষুধ কারখানায় ফের গ্যাস লিক, মৃত ২

বিশাখাপত্তনম: দু’ মাস আগের ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে ফের ভাইজাগে গ্যাস লিক। এলজি পলিমারের পর এবার ওষুধ তৈরির কারখানা। মঙ্গলবার সকালের ঘটনা। পারাওয়াড়ায় অবস্থিত ওই ওষুধের কারখানায় বিষাক্ত বেঞ্জিন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। তাতে মৃত্যু হয় দু’জনের। চারজন গুরুতর অসুস্থ বলে খবর। মৃত ও অসুস্থরা সকলেই কারখানার কর্মী। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি। সাইনর লাইফসায়েন্স ইউনিট নামে ওই কারখানার কর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর নেই।
গত ৭ মে এলজি পলিমারের গ্যাস দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। এলাকায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে মারা গিয়েছিলেন ১২ জন। অসুস্থ হয়েছিলেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গ্যাস লিকের ঘটনা। আর এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে ভাইজাগের শিল্প-কারখানায় নিরাপত্তা। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পারে, কারখানার একটি রিয়্যাক্টর ইউনিট থেকেই বিষাক্ত বেঞ্জিন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্যাস মূলত ওষুধ তৈরির কাজে লাগে। রিয়্যাক্টর মেশিনে বেঞ্জিন গ্যাস পাঠানোর সময়ই তা কোনওভাবে লিক হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউনিটের সিফ্ট ইনচার্জ এবং একজন কেমিস্ট গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়। অসুস্থ চারজনকে গাজুওয়াকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
গ্যাস দুর্ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক এ আদিপ রাজ। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি। যুগ্ম জেলাশাসকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্তের রিপোর্ট পেশ করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মৃত ও অসুস্থদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলাশাসক ভি বিনয় চাঁদকে নির্দেশও দিয়েছেন রেড্ডি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন, ‘অসুস্থদের চিকিৎসার সবরকম সাহায্যের ব্যবস্থা করুক সরকার।’