আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে: ঈশান কিষাণ

আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে: ঈশান কিষাণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন ভারতের তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঈশান কিষাণ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ৩২ বলে অনবদ্য ৫৬ রান করেন তিনি। কেউ তাঁর মধ্যে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে খোঁজার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার বলছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ভারতীয় সংস্করণ। তবে প্রশংসায় গা ভাসাতে রাজি নন ঈশান। বরং তৃতীয় টি-২০’তে আরও ভালো পারফর্ম করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামার চাপ থাকে প্রত্যেক ক্রিকেটারের উপরেই। তা কাটিয়ে উঠতে কেউ সফল হন। কেউ আবার ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন। ঈশান অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা রেখেছেন।  তিনি বলেছেন, ‘ম্যাচের আগে আমাকে বলা হয় ওপেন করতে হবে। নিজের কানকেই প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কারণ, এই দিনটার জন্যই তো এতকাল অপেক্ষা করেছি। মাঠে নামার আগে কোচ ও ক্যাপ্টেন আমাকে বলেছিল, আইপিএলে যেমন খেলে থাকি, সেভাবেই খেলতে। সত্যি বলতে কী, প্রথমবার দেশের জার্সিতে মাঠে নামার সময় একটু তো নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু তা কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি। এর জন্য আমি আইপিএলের কাছে ঋণী। আইপিএলে বহু তারকা পেসারের বিরুদ্ধে ব্যাট করেছি। তাছাড়া মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নেটে ট্রেন্ট বোল্ট, যশপ্রীত বুমরাহর মতো বিশ্বমানের বোলারদের মুখোমুখি হওয়া সুযোগ পেয়েছি বিভিন্ন সময়ে। তাই দেশের জার্সি গায়ে জীবনের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বোলারদের মোকাবিলা করতে সমস্যা হয়নি। উল্টো দিকে বিরাট কোহলির মতো বড় মাপের ক্রিকেটারকে পেয়ে দ্রুত চাপমুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। বিরাটভাই আমাকে ক্রমাগত সাহস জোগাচ্ছিল। তাই উল্টো দিকে কে বল করছে দেখিনি। নিজের মতো করে শট খেলেছি। প্রথম ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরি করতে পারাটা বড় তৃপ্তির। তবে তার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছি দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে।’
এদিকে, রবিবার টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেননি ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। ভারতীয় বোলারদের মোকাবিলা করতে গিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের বেশ অসহায় মনে হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মরগ্যান বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচের পিচের অনেক পার্থক্য ছিল। বল পড়ে নিচু হয়ে যাচ্ছিল। খুব ধীরে বল আসছিল ব্যাটে। এই ধরনের পিচে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের কম। তাই ব্যাটসম্যানরা সঠিক শট নিতে ব্যর্থ হয়। পুরো ঘটনায় আমি হতাশ। টি-২০ সিরিজ জিততে হলে এই ব্যাপারে আমাদের আরও নজর দিতে হবে। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ। ওই সময়ে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’