আইসক্রিমের দাম ১০ টাকা বেশি, মুম্বইয়ের রেস্তরাঁকে জরিমানা ২ লক্ষ

আইসক্রিমের দাম ১০ টাকা বেশি, মুম্বইয়ের রেস্তরাঁকে জরিমানা ২ লক্ষ

রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বাইরের তুলনায় বরাবরই একটু বেশিই। সে আপনি মিনারেল ওয়াটার নিন কিংবা কোল্ড ড্রিঙ্কস। রাস্তার দোকানের চেয়ে দশ-বিশ টাকা বেশি আপনাকে গুনতেই হবে। প্রশ্ন উঠলে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ নানা ট্যাক্সের যুক্তি দেখায়। শেষমেশ কাঁচুমাচু মুখ করে বিলের অতিরিক্ত টাকা মেটাতে হয় ক্রেতাকে। দেশজুড়ে রেস্তরাঁ-সংস্কৃতির এটাই চেনা ছবি। কিন্তু সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি ঘটনা সেই ছবিটাই বদলে দিয়েছে। আইসক্রিমের ন্যায্যমূল্যের চেয়ে মাত্র দশ টাকা বেশি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শহরের এক নামকরা রেস্তরাঁর মালিক। ‘অবৈধ ব্যাবসা’ করার শাস্তি হিসেবে তাঁর হাতে ধরানো হয়েছে দু’লক্ষ টাকা জরিমানার রসিদ।
ছ’বছর আগের ঘটনা। ২০১৪ সাল। মুম্বই পুলিসের সাব-ইন্সপেক্টর ভাস্কর যাদব জুন মাসের কোনও এক রাতে ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। ইচ্ছে ছিল ছেলেমেয়ে ও স্বজনদের জন্য আইসক্রিম নিয়ে যাবেন। পথেই পড়ে সেন্ট্রাল মুম্বইয়ের বিখ্যাত রেস্তরাঁ ‘শাগুন ভেজ রেস্টুরেন্ট’। যাদব ঠিক করেন, সেই রেস্তরাঁর বাইরের কাউন্টার থেকে আইসক্রিম নেবেন। নেড়েচেড়ে একটি ফ্যামিলি প্যাক মনে ধরে তাঁর। বিলের টাকা মিটিয়ে আইসক্রিম কিনে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু আয়েশ করে খেতে বসেই চক্ষু চড়কগাছ! যাদব দেখেন, আইসক্রিমের দাম ১৬৫ টাকা। অথচ রেস্তরাঁ কেটেছে ১৭৫ টাকা। কোন যুক্তিতে তাঁর থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হল, সেটা কিছুতেই ভেবে পান না তিনি। পরদিন এর জবাব চাইতে রেস্তরাঁয় ঢুঁ মারেন যাদব। কিন্তু কোনও উত্তর না দিয়েই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর বাধ্য হয়ে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হন তিনি। গোটা ঘটনাটি জানিয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তার ভিত্তিতে দক্ষিণ মুম্বইয়ের ওই কনজিউমার ফোরাম রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে তলব করে। রেস্তরাঁর তরফে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, আইসক্রিম মজুত রাখার অতিরিক্ত খরচ রয়েছে। সঙ্গে চালু বুলি আউড়ে যোগ করা হয়, রেস্তরাঁ আর পাঁচটা সাধারণ দোকানের মধ্যে ফারাক তো রয়েইছে। তাই বিলে অতিরিক্ত দশ টাকা কাটা হয়েছে।
এরপর দীর্ঘ ছ’ বছরের টালবাহানা। সম্প্রতি যাদবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রায় জানিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর। তাতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের যাবতীয় যুক্তি নস্যাৎ করে দেয় তারা। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ভাস্কর যাদব আইসক্রিম কিনতে রেস্তরাঁর অন্দরে প্রবেশ করেননি। রেস্তরাঁর পরিষেবার কোনও সুবিধা তিনি গ্রহণ করেননি। না কুলারের হাওয়া খেয়েছেন। না কাপ-প্লেট ছুঁয়ে দেখেছেন। এমনকি শেষপাতের মুখশুদ্ধিটুকুও মুখে তোলেননি তিনি। তাই সার্ভিস চার্জের নামে দশ টাকা নেওয়াটা পুরোপুরি অন্যায়। শুধু মৌখিক ভর্ৎসনাই নয়। এর পর শাস্তি হিসেবে ওই রেস্তরাঁর নামে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার অঙ্কও ধার্য করেছে ক্রেতা সুরক্ষা বিভাগ।