আজ থেকে দিল্লির এইমসে শুরু হচ্ছে করোনার দেশীয় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা

আজ থেকে দিল্লির এইমসে শুরু হচ্ছে করোনার দেশীয় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা
আজ থেকে দিল্লির এইমসে শুরু হচ্ছে করোনার দেশীয় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা

করোনাকে কব্জা করতে আজই নয়াদিল্লির এইমসে শুরু হচ্ছে দেশীয় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা। ১২ জনকে দেওয়া হবে ওই পরীক্ষামূলক টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’। তারপর তাঁদের উপর চলবে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ। দেশের অন্যতম খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান নয়াদিল্লির এইমসে করোনা ভাইরাসের হিউম্যান ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিতে গোটা দেশ থেকে দু’হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১০০ জনকে বাছা হয়েছে। এর মধ্যে থেকেই বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ জনের দেহে কোভ্যাক্সিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে। প্রথম ডোজ দেওয়ার দু’সপ্তাহ পরে ফের একই স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হবে ০.৫ মিলির দ্বিতীয় ডোজ। এককথায় এভাবেই চলতি বছরে দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে চলছে নিরলস প্রয়াস।
তবে কাদের শরীরে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে, তা প্রকাশ করা হবে না বলেই ঠিক করেছে এইমসের এথিক্স কমিটি। এইমসের মিডিয়া আহ্বায়ক বি এন আচার্য জানান, আপাতত দিল্লি ও এনআরসি এলাকার স্বেচ্ছাসেবকদেরই করোনার এই টিকা দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। কারণ, টিকার কী প্রভাব পড়ল, তা নিয়ে প্রায় মাস খানেক ধরে তাঁদের উপর নজরদারি চালাতে হবে। তাই পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য রাজ্যের স্বেচ্ছাসেবকরা আবেদন করলেও আপাতত প্রথম দফায় তাঁদের নির্বাচন করা হয়নি। ফেজ থ্রিতে সেই সুযোগও থাকবে।
উল্লেখ্য, নয়াদিল্লির এইমস সহ দেশের ১২ টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১২৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর কোভ্যাক্সিন পরীক্ষা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩৭৫ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৫০ জনের ওপর চলবে নিরীক্ষণ। প্রথম পর্যায়ে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ থেকে ৬৫ বছর বয়ষ্ক স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হবে টিকা। করোনার সংক্রমণ রোধে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করেছে দুটি কোম্পানি। আমেদাবাদের ক্যাডিলা এবং হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক। তারই মধ্যে আইসিএমআরের তত্ত্বাবধানে ভারত বায়োটেকের টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ দেওয়া হবে এইমসে। ক্যাডিলার তৈরি করোনা ভ্যা঩কসিনের নাম হল ‘যুকোভিড’। এরও হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই। দেশীয় এই টিকার পাশাপাশি ভারতীয় কোম্পানি সিরাম ইনস্টিটিউটও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজের কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে।
ডিসিজিআই’র অনুমোদন সাপেক্ষে তারাও ‘কোভিশিল্ড’ নামে চলতি বছরের শেষে মানবদেহে ট্রায়াল শুরু করতে তৈরি হচ্ছে। তারা তাদের ৫০ শতাংশ উৎপাদনই ভারতে কাজে লাগাবে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন প্রতিদিন করোনা ভাইরাস সাধারণ তথা সরকারকে নাস্তানাবুদ করছে, তেমনি ‘সার্স কোভ-টু’ ভাইরাসকে জব্দ করতে টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও দিনরাত লেগে রয়েছে। ক্রমশ তার সুফল ফলতে চলেছে বলেই গবেষকরা মনে করছেন।