এনকাউন্টারেই খতম কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে

এনকাউন্টারেই খতম কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে
এনকাউন্টারেই খতম কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে

 

কানপুর: নাটকীয় ঘটনা। যেন কোনও বলিউডি ছবির চিত্রনাট্য। ডনকে নিয়ে আসার সময় গাড়ি দুর্ঘটনা আর তারপরই পলাতক ডন। তবে রিল লাইফে ডনেরা পালাতে সক্ষম হলেও বাস্তবে কিন্তু তা হল না। পুলিসি এনকাউন্টারেই খতম হল গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। ঘটনার সূত্রপাত আজ শুক্রবার সকালে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে কানপুরে নিয়ে আসা হচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবেকে। যে গাড়িটিতে করে তাকে আনা হচ্ছিল, সেই গাড়িটি পথে হঠাৎই উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া গাড়িটি থেকে একজন পুলিস কর্মীর পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালাতেও চেষ্টা করে উত্তরপ্রদেশের এই ত্রাস। প্রথমে তাকে আত্মসমপর্ণের জন্য বলা হয়। কিন্তু বিকাশ গুলি ছুঁড়তে থাকে বলে জানিয়েছে কানপুর পুলিস। তাকে বাধা দিতেই গুলি চালায় পুলিস। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে গুলিবিদ্ধ হয়েই মৃত্যু না অন্য কোনও কারণে মূত্যু তা এখনও পরিষ্কার নয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় জখম হয়েছেন ৪ জন পুলিসকর্মীও।

এর আগে গতকালই পুলিসের জালে ধরা পড়ে উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত এই গ্যাংস্টার । সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী দিল্লি সহ আরও তিন রাজ্যে চিরুনি তল্লাশির পর বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে গ্রেপ্তার করা হল বিকাশকে। এদিন মন্দিরে পুজো দিতে গেলে পুলিস তাকে ধরে ফেলে। তবে ধরা পড়লেও সে যে কানপুরের শের, চৌবেপুরের রাজা সেই রোয়াব ছিল তার মুখে। পুলিসকে শাসিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘আমি কানপুরের বিকাশ দুবে।’ অর্থাৎ তার গায়ে হাত দিলে রক্ষে নেই। কিন্তু পুলিস তাকে টানতে টানতে ভ্যানে তোলে। ট্রানজিট রিমান্ডে বিকাশকে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে আসা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় বিকাশের স্ত্রী রিচা দুবে, ছেলে এবং এক পরিচারককে তাদের কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। রিচার বিরুদ্ধে বিকাশকে আশ্রয় দেওয়া, তার অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে পুলিস। কানপুর কাণ্ডের পর থেকেই রিচা পলাতক ছিল।
বিকাশের গ্রেপ্তারি পুলিসের বড়সড় সাফল্য হলেও তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে, নাকি সে নিজে থেকেই ধরা দিয়েছে। এদিন বিকাশ দুবের মা বলেন, ‘এখন সে বিজেপির সঙ্গে নয়, এসপির সঙ্গে রয়েছে। সরকার যা ভালো বুঝবে করবে।’ এসপির পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। এদিন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দুবে ইস্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।

৬০ মামলায় অভিযুক্ত বিকাশকে ধরতে পুলিসকে উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে দিল্লি, হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশেও ধাওয়া করতে হয়। কখনও খবর মিলেছে যে, সে হরিয়ানায় হোটেল বুক করতে গিয়েছে। আবার কখনও পুলিস জানতে পারে, সেখান থেকে সে অটো ধরে দিল্লির দিকে গিয়েছে। শেষ তাকে দেখা গিয়েছিল হরিয়ানায়। তারপর প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সফর করে সে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে পৌঁছয়। এদিন সকাল ৭টা নাগাদ তাকে মহাকাল মন্দিরে ঢুকতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, তার আগে মন্দিরের বাইরে একটি দোকান থেকে পুজোর সামগ্রী কেনে। আর সেটাই ছিল তার সবথেকে বড় ভুল। দোকানের একজন তাকে চিনে ফেলে। সেই-ই নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক করে দেয়। নিরাপত্তারক্ষীরা বিকাশের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সে নকল পরিচয়পত্র দেখায়। তখন নিরাপত্তারক্ষীরাই তাকে ধরে পুলিসের কাছে নিয়ে যায়। তবে জাতীয় সড়কে কড়া নজরদারির মধ্যেও হরিয়ানা থেকে ৭০০ কিলোমিটার গাড়িতে করে বিকাশ কীভাবে উজ্জয়িনীতে এল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিকে পুলিস দাবি করেছে, হরিয়ানা থেকে সে রাজস্থানের কোটায় চলে গিয়েছিল। তারপর সেখান থেকে উজ্জয়িনী আসে।