কঠোর দিল্লি, সীমান্তে পিছু হটছে চীন

কঠোর দিল্লি, সীমান্তে পিছু হটছে চীন
কঠোর দিল্লি, সীমান্তে পিছু হটছে চীন

আড়াই কিমি পিছনে সরে গেল লাল ফৌজ, সৌজন্য দেখাল ভারত

 লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা সরাচ্ছে চীন। সরকারি সূত্রের খবর, আজ পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকা ও হট স্প্রিং অংশ থেকে লালফৌজ প্রায় আড়াই কিলোমিটার পিছনে সরে গিয়েছে। গত ৬ জুন দুই দেশের কমান্ডার স্তরের সেনা বৈঠকের সময়ই অনড় অবস্থান নিয়েছিল নয়াদিল্লি। জানিয়েছিল, সীমান্ত থেকে চীন অতিরিক্ত ফৌজ না সরালে ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সেনা মোতায়েন বাড়াতেই থাকবে। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রক পৃথক বিবৃতিতে বলে, শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পথ। তাই ভারত-চীন পুনরায় বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্তে স্বাভাবিকতা ফেরাতে বদ্ধপরিকর। ওই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পরও অবশ্য চলছিল স্নায়ুর লড়াই। অর্থাৎ সেনা মোতায়েন একইরকম ছিল। গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতের সীমান্ত সঙ্কট নিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে চীনকে বলেছিলেন, আমাদের সম্মানে আঁচ লাগলে বরদাস্ত করা হবে না। অবশেষে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের পর, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুযুধান দুই সেনাবাহিনীর অবস্থানে বদল এসেছে। পিছনে সরে যাচ্ছে চীনা সেনা। সৌজন্য দেখিয়েছে ভারতীয় বাহিনীও। তারা পিছিয়ে আসতে শুরু করেছে সীমান্তের সংঘাতপূর্ণ স্থল থেকে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় আগামীকালই আবার হবে বৈঠক। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার স্তরে। আর তা হবে হট স্প্রিং এলাকায়।
চীন সেনা সরিয়ে নিচ্ছে লাদাখের প্যাংগং লেকের ১৪ এবং ১৫ নম্বর পয়েন্ট থেকেও। কিন্তু তাহলে কি দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত সমস্যা আপাতত পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল? সেটা বলা যাচ্ছে না। কারণ এখনও উদ্বেগ জিইয়ে রেখেছে চীন। ৪ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্টে তাদের সেনা মোতায়েনই রয়েছে। যা নিয়ে নয়াদিল্লি কঠোর আপত্তি তুলে এসেছে। এই ফিঙ্গার পয়েন্ট ভারতের অংশ। এমনকী এখানে দু’টি ফিঙ্গার পয়েন্টে ভারতের সেনা টহলেও গত কয়েক সপ্তাহে বারংবার বাধা দিয়েছে চীন। যা নিয়ে অন্তত তিনবার চরম উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারত আশা করছে, এই ফিঙ্গার পয়েন্ট থেকেও লালফৌজ পিছনে সরতে শুরু করবে।
দু’পক্ষের সেনা সরে আসার এই পর্ব শুরু হওয়া মাত্রই স্থির হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ধরে হবে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার স্তরের একাধিক বৈঠক। এই বৈঠকগুলি হবে লাদাখের বিভিন্ন বর্ডার পয়েন্টে। পাশাপাশি দিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক স্তরেও চলবে ভিডিও কনফারেন্স। তার মধ্যেই ভারত তীক্ষ্ণ চোখে নজরে রাখবে, চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার অদূরে বাঙ্কার এবং তাঁবু নির্মাণের কাজ বন্ধ করছে কি না।
এদিকে, চীনের সেনা সরানোর এই বার্তা আসার পাশাপাশি কাকতালীয়ভাবে আজই সুর নরম করেছে নেপাল। কাঠমাণ্ডুর সংসদে মানচিত্র বদল সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন নেপালের উপ প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঈশ্বর পোখরিওয়াল জানিয়েছেন, আমরা ভারতের সঙ্গে বিবাদ নয়, আলোচনা চাই। বিতর্কিত ভূমিখণ্ড নিয়ে দু’দেশের মধ্যে যে মতান্তর তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রশ্নই নেই বলে নেপালের সংসদে আজ মন্তব্য করেছেন তিনি। তাই বলাই যায়, আজ একই দিনে চীন ও নেপাল, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যুতে স্বস্তি পেল ভারত।
বস্তুত হংকং থেকে করোনা, রপ্তানি বাণিজ্য থেকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা, সব মিলিয়েই প্রবল চাপে রয়েছে চীন। গোটা পশ্চিমী দুনিয়া চীনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সেই ক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে করোনা ভাইরাসের গোপনীয়তা থেকে। ক্ষোভের পরিধি প্রবলভাবে বৃদ্ধি পায় করোনা বিরোধী লড়াইয়ের সময় চীনের একাধিক সংস্থা দেশে দেশে ত্রুটিপূর্ণ করোনা পরীক্ষার কিট রপ্তানি করায়। যা ভারতেও এসেছিল। এসবের মধ্যেই আমেরিকার সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একপ্রকার তলানিতে। আন্তর্জাতিকভাবে এমন কোণঠাসা অবস্থায় ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে চীন যে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না, সেনা সরানোর সিদ্ধান্তে তার আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই একের পর এক রাষ্ট্র লাদাখ সীমান্তের উত্তেজনাকে চীনের আগ্রাসন হিসেবেই আখ্যা দিয়েছে।