কেমন হবে রোজকার ডায়েট? I

কেমন হবে রোজকার ডায়েট? I

ডিম: বহু বাচ্চার ডিমে অ্যালার্জি থাকে। এও দেখা গিয়েছে কেউ কেউ ডিমের কুসুম সহ্য করতে পারছেন না। কারও আবার অ্যালার্জি থাকে সাদা অংশে। ফলে ডিম বা ডিমের অংশ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা গায়ে র‌্যাশ বেরলে বা পেটে ব্যথা শুরু হলে কিংবা ডায়ারিয়া শুরু হলে সাবধান। এই ধরনের উপসর্গ ডিমে অ্যালার্জির লক্ষণ। সাধারণত ডিমে অ্যালার্জি হলে এই সমস্যা ওই ব্যক্তিকে সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে হয়। তাই এই ধরনের রোগীকে ডিম ও ডিম মেশানো খাবার খেতে নিষেধ করা হয়। অবশ্য কারও কারও ক্ষেত্রে আবার দেখা যায়, মুরগির ডিম খেলেই অ্যালার্জি হচ্ছে, অথচ হাঁসের ডিম খেলে কোনও সমস্যা হচ্ছে না! তবে ডিম হল প্রোটিনের উৎস। তাই যাঁরা ডিম খেতে পারছেন না, তাঁরা মাছ, মাংস, সোয়াবিন থেকে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারেন।
দুধ: পায়েস হোক বা দুধ-চা, বহু বাড়িতেই খাঁটি গোরুর দুধের ব্যবহার রয়েছে। কিছু কিছু পরিবারে মোষের দুধও বহু লোকেরই দুধ খেলেই পেট খারাপ হয়। রোগী বলেন, দুধ বা খাওয়ার পরেই অবধারিতভাবে পেটে ব্যথা, ডায়ারিয়া হয়। আসলে দুধে থাকে ল্যাকটোজ নামে প্রোটিন। বড়দের ক্ষেত্রে একটা বয়সের পর ল্যাকটেজ এনজাইম কাজ করে না, ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ হয়। তবে ছোটদেরও ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। অবশ্য দেখা গিয়েছে, দুধে এবং ছানাতে অ্যালার্জি থাকলেও দই থেকে সাধারণত অ্যালার্জি হয় না। তাই যাঁরা দুধ খেতে পারছেন না, তাঁরা ডাবল টোনড দুধ থেকে তৈরি টক দই খেতেই পারেন। এমনকী ছানাও খাওয়া যায়। আবার চাইলে গোরুর দুধ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে তার বদলে বদলে সোয়া মিল্কও খাওয়া যায়।
আটা: গ্লুটেন নামে বিশেষ উপাদান থাকে আটায়। বহু মানুষের গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকে। আটার রুটি, লিট্টি’র মতো খাবার খেলেই ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে ল্যাকটোজ এবং গ্লুটেন— দুই ধরনের অ্যালার্জিই দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বেগুন: অনেকেই আছেন যাঁদের বেগুন খেলেই মুখ, জিভ, গলা চুলকোতে শুরু করে। এমনকী গায়ে র‌্যাশ বেরনোর প্রবণতাও দেখা যায়। এই কারণেই কোনও হাসপাতালেই সব্জিতে সাধারণত বেগুন ব্যবহারের রীতি নেই। কেউ আলাদা করে বেগুন খেতে চাওয়ার অনুরোধ করলে আলাদা বিষয়। তবে বেগুন খেতে না পারলে চিন্তা নেই। অন্যান্য পুষ্টিকর সব্জিও রয়েছে। সেগুলো খেয়েই পুষ্টি সংগ্রহ করা সম্ভব।
শাক: অনেকেই বলেন, শাক খেলেই তাঁদের ডায়ারিয়ার সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় ভোগার রোগীর শাক থেকে প্রভূত সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে পালং ও পুঁই শাক নিয়েই বেশি অভিযোগ শোনা যায়।
চিংড়ি ও কাঁকড়া: শুধু খাওয়া নয় অনেকেই বলেন, শুধু চিংড়ি ও কাঁকড়া রাঁধার গন্ধ নাকে গেলেই তাঁদের গায়ে র‌্যাশ বেরতে থাকে! একবার ভুলক্রমে খেলেই শয্যাশায়ী হওয়া কেউ আটকাতে পারে না। তখন আবার অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ খেতে হয়। সাধারণত চিংড়ি ও কাঁকড়ায় অ্যালার্জি একসঙ্গেই হতে দেখা যায়। তবে এমন খাবারে অ্যালার্জি থাকলে কখনই খাবারগুলি খাওয়া উচিত নয়। সামুদ্রিক অন্যান্য মাছ খান। তবে সামুদ্রিক খাদ্যে অ্যালার্জি থাকলে সাবধান। সেক্ষেত্রে নদী আর পুকুরের প্রচুর মাছ রয়েছে। সেগুলি খান।
সব্জির স্যালাডে অ্যালার্জি: শশা, টম্যাটোর মতো সব্জি কাঁচা খেলেই অনেকের আবার ঘনঘন ঢেকুর ওঠা, বদ হজমের সমস্যা তৈরি হতে দেখা যায়। তবে শশার তরকারি বা টম্যাটোর চাটনির মতো রান্না করা খাবার খেলে সমস্যা তৈরি হতে দেখা যায় না।
কী করবেন?
কোনও খাবারে অ্যালার্জি থাকলে জোর করে সেই খাবার খাবেন না। খাবার খেয়ে বদহজম হলে শরীরে পুষ্টি শোষিত হয় না। বরং বার বার বদহজম হলে দেহের পেশি দুর্বল হতে শুরু করে। শরীর ভাঙতে থাকে। আর যাঁদের খাবার থেকে গায়ে র‌্যাশ বেরনোর সমস্যা থাকে তাঁরা সঙ্গে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ সঙ্গে রাখুন। কারণ, অনেক সময় বেড়াতে গিয়ে অজান্তে খাবার খেয়ে অ্যালার্জি হলে ওষুধটি জীবনদায়ী প্রমাণিত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিনিধি