করোনা রুখতে কার্যকর আয়ুর্বেদিক দাওয়াই, প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্ট

করোনা রুখতে কার্যকর আয়ুর্বেদিক দাওয়াই, প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্ট

 ইমিউনিটি বাড়ার তথ্য এসেছিল আগেই। এবার সামনে এল সুস্থ হয়ে ওঠার পরীক্ষিত সত্য। যার কৃতিত্ব উত্তরবঙ্গের এক বাঙালি গবেষকেরও। আয়ুর্বেদের চার দাওয়াইয়ে মাত্র ছ’দিনে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন কোভিড রোগী। আর সেই সাফল্যের কথাই তুলে ধরে করোনা রোগীদের মনের ভয় কাটাতে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া সহজ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি আয়ুর্বেদ দাওয়াইয়ে করোনো রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য বলেই তুলে ধরছে কেন্দ্র। নয়াদিল্লিতে রয়েছে আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ (এআইআইএ)।’ যাকে রাজধানীতে চলতি কথায় অনেকেই আয়ুর্বেদের এইমস আখ্যা দেন। প্রতিষ্ঠানের অ্যা঩সোসিয়েট প্রফেসর তথা কোভিড হেলথ সেন্টারের নোডাল অফিসার বাঙালি চিকিৎসক শিশিরকুমার মণ্ডল সহ মীনাক্ষী শর্মা, শালিনী রাই, চারু শর্মা এবং আনন্দ মোরে কোভিড আক্রান্তের চিকিৎসায় প্রয়োগ করেন চার আয়ুর্বেদ দাওয়াই। যার জেরে কমে যায় জ্বর, গা হাত পায়ে ব্যথা। ফিরে আসে স্বাদ, গন্ধ। কমে যায় কাশি। হ্রাস পায় শ্বাস সমস্যা। কী সেই দাওয়াই? গবেষণাপত্রের তথ্য বলছে, আয়ুষ কাথ (গরম জলে তৈরি তুলসি পাতা, আদা, কালো মরিচ, দারচিনির মিশ্রণ), সংশোমণি বটি বা গুলঞ্চ (যাকে গুড়ুচিও বলে) এবং ফিফাট্রোল ও লক্ষ্মীবিলাস রস ট্যাবলেট দিয়ে চলেছে চিকিৎসা। ছ’দিনের মাথায় করোনা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন রোগী। তারপর শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে চাঙ্গা করতে পরের সাতদিন দেওয়া হয়েছে চ্যবনপ্রাশ, গুলঞ্চর কাণ্ড। চিকিৎসা পর্বে গোড়ার দিকে আয়ুষ কাথ আর গুলঞ্চ দেওয়ার পর তিনদিনের মাথায় হার্বস-মিনারেল সমৃদ্ধ আয়ুর্বেদ ট্যাবলেট ফিফাট্রোল এবং লক্ষ্মীবিলাস রস খাওয়ানো হচ্ছে। ‘জার্নাল অব আয়ুর্বেদ কেস রিপোর্টে’ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। 
পরীক্ষামূলক এই ট্রায়ালের সাফল্যে কথা উল্লেখ করে ডাঃ শিশিরকুমার মণ্ডল বলেন, আয়ুর্বেদ দাওয়াই কোভিড রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভরসা জোগাচ্ছে। এমন রোগীর ওপরও দাওয়াই কাজ করেছে, যার করোনা আক্রান্ত অবস্থায় হৃদস্পন্দন ছিল অত্যন্ত কম। তাই করোনা চিকিৎসায় আয়ুর্বেদের এই দাওয়াই প্রয়োগ করলে সুস্থ হয়ে উঠবেন রোগী। ফিরবেন স্বাভাবিক ছন্দে।