করোনা সন্দেহে চিকিৎসা করেনি তিনটি হাসপাতাল, মৃত্যু যুবকের

করোনা সন্দেহে চিকিৎসা করেনি তিনটি হাসপাতাল, মৃত্যু যুবকের

 ‘রেফার ইস্যু’তে রাজ্যের কড়া অবস্থানের পরও হুঁশ ফেরেনি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলির। মেডিক্যাল কলেজ-কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে সেই রেফার চক্করে পড়ে প্রাণ গেল বারাকপুরের দীপঙ্কর সিংহরায় নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি হাসপাতাল ঘুরে একটি নার্সিংহোমে যাওয়ার পথে বেঘোরে মারা যান তিনি। গত ১০ জুলাই ঠিক একই ভাবে মৃত্যু হয়েছিল ইচ্ছাপুরের ছাত্র শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা জোটেনি তার। শেষে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসা শুরু হলেও শেষ রক্ষা হয়নি শুভ্রজিতের। এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ‘রেফার’ করার স্পষ্ট গাইড লাইন তৈরি করে স্বাস্থ্য দপ্তর। কিন্তু তার পরেও ‘রেফার’ নিয়ে অবস্থান বদল করেনি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলি। মৃত দীপঙ্করের পরিবারের তিক্ত অভিজ্ঞতা অন্তত সেটাই বলছে। গুরুতর অসুস্থ দীপঙ্করকে প্রথমে বারাকপুর পুরসভার মাতৃসদনে নিয়ে যান তাঁরা। পরে বি এন বোস হাসপাতাল। সেখানেও তাঁর চিকিৎসা হয়নি। তার পরেও আরও একটি হাসপাতাল ঘুরতে হয়েছে দীপঙ্করের পরিবারকে। শেষে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। দীপঙ্করের বাড়ি বারাকপুরের মোহনপুরের বড় কাঁঠালিয়ায়। তাঁর এক আত্মীয় সুকান্ত নস্করের অভিযোগ, ‘শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল দীপঙ্করের। করোনা সন্দেহে নার্সিংহোম বা সরকারি হাসপাতালেও ওর চিকিৎসা করতে রাজি হল না কোনও চিকিৎসকই। সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে দীপঙ্করের।’ বেশ কিছুদিন ধরেই স্নায়ুরোগে ভুগছিলেন দীপঙ্কর। বৃহস্পতিবার আচমকাই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় দীপঙ্করের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্যই আমাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘যা বলার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলবেন।’ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তাপস কুমার রায় বলেন, ‘শয্যা ছিল না বলেই সাগর দত্ত হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। বি এন বসুতে তো চিকিৎসা শুরু হয়েছিল।’ তবে ইঞ্জেকশন দেওয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মানতে নারাজ তিনি।