কাল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, খালি চোখে দেখা বারণ বিজ্ঞানীদের

কাল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, খালি চোখে দেখা বারণ বিজ্ঞানীদের
কাল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, খালি চোখে দেখা বারণ বিজ্ঞানীদের

 কাল রবিবার বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। শুরু ১০টা ৪৭ মিনিটে। উত্তর ভারতের কিছু অংশ থেকে গ্রহণ দেখা যাবে। তবে, দেশের বাকি জায়গা থেকে আংশিক দেখা যেতে পারে। কলকাতা, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার রয়েছে সেই তালিকায়। খালি চোখে দেখতে বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অবশ্য জানাচ্ছেন, কলকাতা থেকে আদৌ কতটা গ্রহণ দেখা যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা, রাজ্যে বর্ষা ঢুকে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সূর্য প্রায় ঢেকে থাকছে মেঘে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসেও বলা হচ্ছে, রবিবারও কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকবে। তাই কিছুটা নিরাশই হতে পারেন শহরবাসী। তবে দার্জিলিংসহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে সর্বাধিক ভালো সূর্য গ্রহণ দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে আকাশের মর্জির উপর।
পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার জানিয়েছে, কলকাতায় আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সবথেকে বেশি গ্রহণ দেখতে পাওয়ার কথা। কলকাতায় গ্রহণ থাকবে তিন ঘণ্টা ৩১ মিনিট। দুপুর ২ টো ১৭ মিনিটে গ্রহণ কাটবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে কলকাতা থেকে ৬৫.৬ শতাংশ গ্রহণ দেখা যাবে। উত্তরের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার থেকে যথাক্রমে সূর্যের ৮১.৬ শতাংশ, ৮৩.১ শতাংশ এবং ৮০.৩ শতাংশ চাঁদের আড়ালো ঢাকা পড়া অবস্থায় দেখা যাওয়ার কথা বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের ডিরেক্টর সঞ্জীব সেন বলেন, ‘দেশে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সবথেকে ভালো চাক্ষুস করার সুযোগ রয়েছে, দেরাদুন, কুরুক্ষেত্র, সুরাতগড়, চামোলি, যোশিমঠ এবং সিরসা থেকে। এই সব শহর থেকে ৯৮.৬ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়া অবস্থয় দেখা সম্ভব। ভারতের অন্যান্য শহরের মধ্যে দিল্লি থেকে ৯৪ শতাংশ, গুয়াহাটি ৮০ শতাংশ, পাটনা থেকে ৭৮ শতাংশ, কলকাতা থেকে প্রায় ৬৬ শতাংশ, মুম্বই থেকে ৬৫ শতাংশ, চেন্নাই থেকে ৩৪ শতাংশ এবং পোর্ট ব্লেয়ার থেকে সূর্যের ২৮ শতাংশ ঢাকা অবস্থায় সূর্যের গ্রহণ দেখা যাবে। ভারত ছাড়াও বিদেশের মধ্যে কঙ্গো, সুদান, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, সৌদি আরব, ওমান, পাকিস্তান এবং চীন থেকে এই বলয় গ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে। তবে এই সূর্য গ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে কয়েকটি সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন সঞ্জীববাবু। তিনি জানিয়েছেন, অ্যালুমিনাইজড ম্যালার, ব্ল্যাক পলিমার এবং ১৪ নং শেডের ওয়েল্ডিং গ্লাস দিয়ে তৈরি ফিল্টার দিয়ে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। সরাসরি দেখা চোখের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি সতর্ক করে দেন। তবে সবথেকে নিরাপদ প্রতিচ্ছবি তৈরি করে সাদা কাগজ বা কাপড়ের উপর যদি এই গ্রহণ দেখা সম্ভব হয়।