কৃষক আন্দোলনে বেসামাল মোদির আক্রমণ বাংলাকে প্রধানমন্ত্রীর এমন কুৎসা, মিথ্যাচার সাজে না: মমতা

কৃষক আন্দোলনে বেসামাল মোদির আক্রমণ বাংলাকে প্রধানমন্ত্রীর এমন কুৎসা, মিথ্যাচার সাজে না: মমতা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও আদর্শ পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মমতার জন্যই পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষ কৃষক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না। মমতার পাল্টা জবাব, এত কুৎসা? এত মিথ্যাচার? একজন প্রধানমন্ত্রী এভাবে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছেন, এটা শোভা পায় না! 
ভোট আসছে। তাই মোদি-মমতার রাজনৈতিক লড়াই দলীয় মঞ্চে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রধানমন্ত্রী বনাম মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাতে পরিণত হয়েছে। যার নেপথ্য কারণ? নরেন্দ্র মোদির কাছে পাখির চোখ একটাই—পশ্চিমবঙ্গ। কৃষক আন্দোলনে বেসামাল হয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন শুধু রাজনৈতিক স্বার্থকেই। তাই শুক্রবার সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর তীব্র আক্রমণের লক্ষ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষকদের মন জয় করতে মোদি এদিন দেশের কৃষকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নিধি সম্মান প্রকল্প অনুযায়ী ১৮ হাজার কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি-আদর্শ পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কৃষকদের বিরুদ্ধে তাঁর আচরণ আমাকে অত্যন্ত বেদনাহত করেছে। এ ব্যাপারে বিরোধীরা নীরব কেন? গোটা দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরাই বছরে ৬ হাজার টাকার কেন্দ্রীয় অনুদান পাচ্ছেন না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রকল্পটি আটকে দিচ্ছে। এভাবে ৭০ লক্ষ কৃষককে বঞ্চিত করছেন মমতা। ২৩ লক্ষ কৃষক আমাদের কাছে আবেদনও করেছেন। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিধিনিয়মের নানা দীর্ঘসূত্রিতায় প্রকল্প কার্যকর করছে না।’ এদিনের কৃষক বান্ধব অনুষ্ঠানকে একপ্রকার বাংলার ভোটমঞ্চে পর্যবসিত করে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সবটাই হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে। এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?’  সরকারি অনুষ্ঠানের ভার্চুয়াল বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আক্রমণ করছেন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে... বেনজির এই ঘটনার প্রত্যুত্তর দেন মুখ্যমন্ত্রীও। প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অর্ধসত্য আর বিকৃত তথ্য পরিবেশন করছেন। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করছেন, পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের তাঁর সরকার নাকি উপকার করতে চায়। আমরা‌ই নাকি বাধা দিচ্ছি। আমি স্পষ্ট জানাতে চাই যে, কৃষকদের স্বার্থে আমরা সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। কেন্দ্র কোনওরকম সাহায্য করতে রাজি নয়। উল্টে মিথ্যা কুৎসা করছে। আমরা এতগুলি প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছি। হঠাৎ একটি প্রকল্পে কেন করব না? এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে যদি প্রধানমন্ত্রী এতই সহায়তা করতে উদগ্রীব থাকেন, তাহলে আমাদের বকেয়া ৮৫ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন কেন? এমনকী ৮ হাজার কোটি টাকার জিএসটি পর্যন্ত মেটাচ্ছে না কেন্দ্র। রাজ্যের স্বার্থে আমরা যে কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পেই সহায়তা করব।’
এদিনের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের একটা অন্য উল্লেখযোগ্য দিকও ছিল—দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যে কৃষকদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নয়া কৃষি আইনের সমর্থক। তাঁদের ঢাল করেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের আক্রমণ করেন। বলেন, বিরোধীরাই কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে। তবে তিনি কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতানেত্রীর নামোচ্চারণ করেননি। ব্যতিক্রম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বারংবার তোপ দাগেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে পরোক্ষে আক্রমণ করেন সিপিএমকেও। বলেন, যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে এসে কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করছে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, কেরলে কেন কৃষি বিপণণ কেন্দ্র নেই? তাঁর ভাষণের গতিপ্রকৃতি থেকেই স্পষ্ট, আগামী পাঁচ মাস জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ হতে চলেছে মোদি বনাম মমতা! নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মমতা এদিন চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছেন, ‘আপনি আমার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন! আমার একটাই অবস্থান, রাজ্যের স্বার্থ। রাজ্যবাসীই আমার পরিবার। সর্বশক্তি দিয়ে আমি মানুষের সেবা করছি। আমাদের নামে যারা কুৎসা করছে, আমার বিশ্বাস মানুষই তাদের জবাব দেবে!’ মমতার কটাক্ষ, ‘লক্ষ লক্ষ কৃষক আজ রাস্তায় অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। তাঁদের কাছে গিয়ে সুবিচার দেওয়ার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী টিভিতে ভাষণ দিচ্ছেন কেন?’