খুনের হুমকিতেই পুনর্গণনায় রাজি হননি রিটার্নিং অফিসার নন্দীগ্রামে ষড়যন্ত্র নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

খুনের হুমকিতেই পুনর্গণনায় রাজি হননি রিটার্নিং অফিসার নন্দীগ্রামে ষড়যন্ত্র নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

 নন্দীগ্রামের ফলাফলে ‘কারচুপির’ অভিযোগ রবিবারই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সোমবার আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো সামনে আনলেন তাঁর মোবাইলে আসা একটি মেসেজ। সেই মেসেজে নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যার জেরে নন্দীগ্রামের ভোটে পুনর্গণনার সম্মতি দিতে রিটার্নিং অফিসার সাহস পাননি বলে দাবি করলেন মমতা। ফলে নন্দীগ্রামের ভোট ফলাফল নিয়ে যে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছে, তাতে বড়সড় হাতিয়ার হয়ে উঠল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আসা ওই মেসেজ।
একুশের ভোটযুদ্ধে রাজনীতির যাবতীয় আলো শুষে নিয়ে ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। রবিবার ফলাফল ঘোষণার সময় থেকেই দেশবাসীর বাড়তি নজর ছিল ওই কেন্দ্রের দিকে। নন্দীগ্রামে মমতার জয় নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন বাংলা তথা দেশের মানুষ। অথচ, প্রথমে জয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরও ফল উল্টে গেল। সেই ক্ষোভের সুরই এদিন শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেছেন, ‘সব জায়গায় এক ফল। আর একটা জায়গায় আট হাজার ভোট হঠাৎ করে হয়ে গেল শূন্য! চার ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ডাউন। ৪০ মিনিট লোডশেডিং। মেশিন পাল্টেছে। অনেক কিছু করেছে। হঠাৎ সব উল্টে গেল! আমি তো এরকম কোথাও দেখিনি।’ মমতা প্রশ্ন তুললেন, ‘ভয়ের কী আছে পুনর্গণনা চাইলে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন উদ্দেশ্যে পুনর্গণনার নির্দেশ দিল না?’
রবিবার রাত ১১টা নাগাদ এই মেসেজ তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে এসেছে। নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন তুলে ধরেছেন মমতা। ওই মেসেজে লেখা রয়েছে, রিটার্নিং অফিসারকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই অফিসারের একটি মেয়ে রয়েছে। পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে তার পরিবারের উপর আঘাত আসবে বলে অভিযোগ উঠেছে। মমতা বলেন, রিটার্নিং অফিসারের মেসেজটি দেখেছেন? কী সাংঘাতিক! রিটার্নিং অফিসার বলছেন, তিনি যদি পুনর্গণনার নির্দেশ দেন, তাহলে তার প্রাণ সংশয় হতে পারে। ‌তিনি বলছেন, বন্দুকের নলের সামনে তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে। জীবন নিয়ে সংশয় আছে। তার মানে বুঝতে পারছেন, কী হয়েছে সেখানে?
এই ঘটনার সুবিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, এত বড় মাফিয়াগিরি আগে দেখিনি। আমরা চাই এর বিচার হোক। আদালতে যাব। নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে দলের কর্মীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। যতক্ষণ না সুবিচার মিলছে, তার আগে পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ‘ভোটযন্ত্র সংরক্ষণের’ দাবিও উঠে এসেছে মমতার বক্তব্যে। বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে লিখিত দিতে হবে। আলাদা করে রাখতে হবে পোস্টাল ব্যালট, ইভিএম, ভিভিপ্যাট। সেগুলির মধ্যে কোথাও বিকৃতি ঘটেছে কি না, তা দেখা হবে। যদি কোথাও বিকৃতি ঘটে থাকে, তাহলে হবে ফরেনসিক অডিট। ‌
নন্দীগ্রামের ফলাফলের পিছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ আছে বলে মনে করছে তৃণমূল। আর সেটাই তারা খুঁজে বের করতে চায়। এছাড়া পুলিস প্রশাসনের একটা অংশ বিজেপির হয়ে কাজ করেছে বলে মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ করেছেন, কোচবিহারের পুলিস সুপারের সরাসরি ইন্ধন ছিল। এহেন পুলিস অফিসারদের ‘রাজ ধর্ম’ পালনের কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি মমতা। বলেছেন, বিজেপি এখনও বিভিন্ন জায়গায় গোলমাল পাকাচ্ছে। বর্ধমানে আমাদের কর্মীকে খুন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর পরামর্শ, সবাই শান্ত থাকুন। কেউ কোনও গোলমালে যাবেন না। কোথাও কোনও সমস্যা হলে পুলিসকে জানান। অন্য দল থেকে কেউ আসতে চাইলে মমতার বার্তা, আসুক না। আসতে কে বারণ করেছে, সবাই স্বাগত!