খোলাবাজারে ক্রমেই চড়ছে পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশে অত্যধিক রপ্তানি

খোলাবাজারে ক্রমেই চড়ছে পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশে অত্যধিক রপ্তানি

চড়চড় করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। শুধু এরাজ্য নয়, গোটা দেশেই। গত বছরের মতো পেঁয়াজ ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকাবে কি না, সেই আশঙ্কায় আমজনতা চিন্তায় পড়েছে। খুচরো বাজারে এখনই দাম ৪০ টাকা ছুঁয়েছে। এক মাসের মধ্যে কেজিতে ১০-১৫ টাকা দাম বেড়েছে খুচরো বাজারে। সরকারি সুফল বাংলার স্টলেও দাম বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে। পাইকারি বাজারেও ২৭ থেকে ৩০ টাকা দাম ছিল শনিবার। এখন ভিনরাজ্য বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক সহ কয়েকটি রাজ্য থেকে মূলত বাজারে পেঁয়াজের জোগান এসেছে। বেশি বৃষ্টির কারণে ওই সব রাজ্যে মাঠে থাকা ও সংরক্ষিত পেঁয়াজের ক্ষতি হওয়ার জন্য দাম বৃদ্ধি ছাড়াও আরও একটি কারণ উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বিদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে জোগানের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে দাম বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র থেকে পাঠানো পেঁয়াজ পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঢুকছে। সড়কপথের সঙ্গে রেলের রেকে করেও পেঁয়াজ আসছে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য।
এদেশের পেঁয়াজের একটা বড় ক্রেতা বাংলাদেশ। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় সরকার গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেয়। ওই নিষোধাজ্ঞা ওঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কারণ ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার দাম বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার গত মার্চ মাসে রপ্তানির উপর নিষোধাজ্ঞা তুলে নেয়। ফের বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু হয়ে যায়। রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রের কারবারিদের কাছ থেকে খবর নিয়ে তাঁরা জানতে পেরেছেন সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু রপ্তানির বিষয়টা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করে তাই রাজ্যের পক্ষে এব্যাপারে কিছু করার নেই। তবে বাংলাদেশে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনও দেশে পেঁয়াজ পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্যবসায়ী মহল। ভারত থেকে বাংলাদেশ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ও আরব দেশে কিছু পেঁয়াজ রপ্তানি হয়। কিন্তু আরবে খুব ভালো মানের দামি পেঁয়াজ যায়। বাংলাদেশ সাধারণ মানের পেঁয়াজ নেয়। ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও, নিষোধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তানে সরাসরি পেঁয়াজ পাঠানো যায় না।