জিনগত বিবর্তনে ভারতে চরিত্র বদলাচ্ছে করোনা

জিনগত বিবর্তনে ভারতে চরিত্র বদলাচ্ছে করোনা
জিনগত বিবর্তনে ভারতে চরিত্র বদলাচ্ছে করোনা

বাঙালি গবেষণায় মার্কিন স্বীকৃতি

 চরিত্র বদলাচ্ছে করোনা ভাইরাস। তাও আবার আমাদেরই দেশে। চার বাঙালি বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য। বিশ্ববন্দিত মার্কিন বিজ্ঞান প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের জিনোমিক্স জার্নালে শুক্রবারই প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি। তবে, ভাইরাসের এই ভোলবদল দেশের পক্ষে ভালো না খারাপ, তা এখনই বলায় সময় আসেনি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
ভাইরাসের এই চরিত্র বদল, বা বলা ভালো জিনগত বিবর্তনকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় মিউটেশন বা পরিব্যক্তি। তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১১৮ বার জিনের বদল ঘটিয়েছে করোনা ভাইরাস। এর মধ্যে ভারতে হয়েছে তিন ধরনের মিউটেশন। একটি মিউটেশন সম্পূর্ণভাবে গুজরাতে থাকাকালীনই হয়েছে। বাকি দু’টির খোঁজ ভারতের পাশাপাশি ইউরোপেও মিলেছে। এই তথ্য সামনে আসায় চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ এবং রোগ গবেষণায় এক নতুন দিশা খুলে যাবে বলেই আশা গবেষকদের।
পিংলা থানা মহাবিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক শেখ শরিফ হাসান, কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞানী পবিত্র পালচৌধুরী, কলকাতার ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের কোষ বিজ্ঞানী সিদ্ধার্থ এস জানা এবং জোহানেসবার্গের উইটওয়াটারসর‌্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওরিটিক্যাল ফিজিসিস্ট ডঃ পল্লব বসু এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দেশের মধ্যে গুজরাত ও কেরলের মোট ৩২ জন রোগীর শরীরের ভাইরাসের জিন সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করেন তাঁরা। তাতে দেখা গিয়েছে, ভাইরাসে থাকা একটি বিশেষ প্রোটিন ‘ওআরএফ৩এ’ ভারতীয়দের জিন এবং আবহাওয়া অনুযায়ী নিজেকে পাল্টেছে। তবে এর ফলে ভাইরাস আরও শক্তিশালী না দুর্বল হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় ভারতে মৃত্যুহার কম। কিন্তু গুজরাতের মৃত্যুহার অনেকটাই বেশি। তাই কোনও একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য এ নিয়ে নিরন্তর পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু কোন পথে গবেষণা এগলে ভাইরাসটিকে আরও ভালোভাবে চেনা যাবে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি ওই চার বিজ্ঞানীর। তবে, এর জন্য অন্যান্য রাজ্যগুলি থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে। ভারতের ভাইরাসটির সঙ্গে প্যাঙ্গোলিন বা বাদুড়ের শরীরে পাওয়া ভাইরাসের মিল রয়েছে বলেও দাবি বিজ্ঞানীদের। পশ্চিমের দেশগুলিতে দেখা যাচ্ছে, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ বা বাদামি বর্ণের মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। সেই তুলনায় ভারত বাদামি চামড়ার দেশ হলেও এখানকার নিয়ন্ত্রিত মৃত্যুহার পশ্চিমের দেশগুলিকেও বেশ বিস্ময়ে রেখেছে। তাই এই গবেষণা নিয়ে উৎসাহ রয়েছে তাদের মধ্যেও।