জ্বর ও গলা ব্যথা, আইসোলেশনে কেজরিওয়াল, আজ করোনা টেস্ট

জ্বর ও গলা ব্যথা, আইসোলেশনে কেজরিওয়াল, আজ করোনা টেস্ট
জ্বর ও গলা ব্যথা, আইসোলেশনে কেজরিওয়াল, আজ করোনা টেস্ট

বেড সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত খারিজ গভর্নরের

 

সামান্য জ্বর, সঙ্গে কাশি এবং গলা ব্যথা। করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রবিবার থেকে কারও সঙ্গে দেখা করেননি। সতর্কতা হিসেবে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ টেস্ট হবে তাঁর। এদিকে, এদিনই হাসপাতালের বেড দিল্লিবাসীর জন্য সংরক্ষণ নিয়ে কেজরিওয়াল সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিলেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজল। ইতিমধ্যে দিল্লি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, এর ফলে দিল্লিবাসীর সমস্যা বাড়বে।
দিল্লিতে ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণ ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আরও আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন। তাঁর দাবি, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই রাজধানীর করোনা সংক্রমণ ৫৬ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। তবে, এদিনের সবথেকে বড় খবর ছিল কেজরিওয়ালের অসুস্থতা। এই সম্পর্কে আপ বিধায়ক রাঘব চাড্ডা জানিয়েছেন, কেজরিওয়াল রবিবার বিকেল থেকেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। তারপর থেকে তিনি কারও সঙ্গে দেখা করেননি। যদিও গত কয়েকদিন ধরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যাবতীয় বৈঠক হয়েছে। যেহেতু তাঁর মধ্যে করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে মঙ্গলবার তাঁর টেস্ট হবে। জানা গিয়েছে, বছর একান্নর কেজরিওয়াল ডায়াবেটিসের রোগী। আপাতত নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে একদিন অপেক্ষা করে তারপর কোভিড পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। আপের শীর্ষ নেতা সঞ্জয় সিংও কেজরিওয়ালের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ট্যুইট করেছেন।
অন্যদিকে, রবিবার দিল্লি সরকারের অধীনস্থ সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলি শুধুমাত্র রাজধানীর নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে ঘোষণা করেছিল কেজরিওয়াল সরকার। সেই ঘোষণার বিরুদ্ধে সোমবার পিটিশন দাখিল হয় দিল্লি হাইকোর্টে। যদিও, এ নিয়ে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, রাজধানীতে প্রতিদিন হাজার জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ১৭ হাজার বেডের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি, উপসর্গহীন এবং সামান্য উপসর্গ থাকা ব্যক্তিকে কোভিড পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। বিচারপতি ডি এন প্যাটেল এবং বিচারপতি প্রতীক জালানের বেঞ্চ এব্যাপারে দিল্লি সরকার এবং আইসিএমআরের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।
এদিকে, দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, একজন সহকারী সেকশান অফিসারের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর জেনারেল কে এস ধাতওয়ালিয়াও। তাঁকে দিল্লি এইমসে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার পুরো ভবনটি স্যানিটাইজ করা হয়েছে। মঙ্গলবারও ভবনটি বন্ধ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণে দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে আরও এক সিআরপিএফ জওয়ানের। এই নিয়ে মোট চারজনের জওয়ানের মৃত্যু হল রাজধানীতে।