টাকা হাতাতে জামতাড়া গ্যাংয়ের নয়া হাতিয়ার এখন ই-সিমকার্ড

টাকা হাতাতে জামতাড়া গ্যাংয়ের নয়া হাতিয়ার এখন ই-সিমকার্ড
টাকা হাতাতে জামতাড়া গ্যাংয়ের নয়া হাতিয়ার এখন ই-সিমকার্ড

 

 প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে অনেকেই এখন ই-সিম কার্ড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। মানুষের মধ্যে এই নিয়ে আগ্রহ বাড়ায় ই-সিমকেই প্রতারণার নয়া হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে জামতাড়া গ্যাং। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতারকদের এই নয়া ছক প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদের পুলিস এমনই এক প্রতারণা চক্রের হদিশ পেয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। তাদের মধ্যে চারজনই ঝাড়খণ্ডের জামতারা গ্যাংয়ের সদস্য। ধৃতদের জেরা করে চক্রের চাঁইদের নাগাল পেতে চাইছে পুলিস। তদন্তকারীদের মতে, ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার ও ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাপিস করেছে ওই প্রতারণা চক্র।
ফরিদাবাদের পুলিস কমিশনার ওপি সিং বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিন্নধারার একটি প্রতারণা চক্র। প্রতারকরা টাকা হাপিস করার জন্য ই-সিম ব্যবহার করছে। এই ধরনের ঘটনার জন্য ব্যাঙ্ক ও মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেও দায়ী করেছেন তিনি।
কীভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা? জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরটি খুঁজে বার করত জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা। কোনও নম্বর মিলে গেলেই মোবাইল ব্যবহারকারীকে ফোন করা হতো। বলা হতো, সিম আপগ্রেড করার জন্য কেওয়াইসি পূরণ করতে হবে। সংস্থার কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভের মতো করেই গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলত প্রতারকরা। গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করার পরই তাঁকে একটি ইমেল পাঠানো হতো। ওই মেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ইমেল আইডির মতো দেখতে আইডি ব্যবহার করত প্রতারকরা। এবার কৌশলে ওই ইমেল আইডির সঙ্গে গ্রাহকের ফোন নম্বরটি জুড়ে দেওয়া হতো। গ্রাহক তাতে সম্মতি দিলেই সিমটি ই-সিমে রূপান্তরিত করতে আর কোনও বাধা রইল না জামতাড়া গ্যাংয়ের। এই নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যেহেতু প্রতারকদের জানা, তাই নিমিশেই টাকা হাপিস করে দিত তারা।
জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, প্রথমে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করা হতো। সেগুলির উপর ভিত্তি করে অপারেশন চালাত তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইসিআইসিআইয়ের গ্রাহক ও এয়ারটেলের ফোন নম্বর ব্যবহারকারীদের নিশানা করত তারা। পুলিসের নজর এড়ানোর জন্য টাকা হাতানোর পর তা ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিভিন্ন ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই বিষয়ে জানতে বিভিন্ন ই-ওয়ালেট সংস্থাকে সমন পাঠিয়েছে পুলিস।
প্রতারণার টাকা আত্মসাত্ করতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই পুলিস জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের চাঁইদের সঙ্গে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বহু কন্ট্রাকটারের যোগসাজস রয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ডের থেকে আসা বহু শ্রমিককে ওই কন্ট্রাকটাররা বিভিন্ন জায়গায় কাজে পাঠায়। ওই শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তাদের কাছে থাকে। প্রতারণার টাকা সরিয়ে ফেলতে এই অ্যাকাউন্টগুলিই ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ঘুণাক্ষরে তা টের পাচ্ছেন না ওই শ্রমিকরা। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে একজনের মোবাইল এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।