দ্রুতগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সব কোচ বাতানুকূল করার টার্গেট রেলের

দ্রুতগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সব কোচ বাতানুকূল করার টার্গেট রেলের

 উঠে যাচ্ছে নন-এসি কোচ। ধাপে ধাপে দূরপাল্লার মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের নন-এসি কোচকে এসি কোচে পর্যবসিত করার পথে হাঁটতে চলেছে রেল বোর্ড। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অন্য এসি কোচের তুলনায় এগুলির যাত্রীভা‌ড়া হবে কম। রেল বোর্ড সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে দ্রুতগতির মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিকেই। অর্থাৎ, যেগুলির গতি ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে যে ট্রেনগুলির গতি বৃদ্ধি পেয়ে এই সীমায় পৌঁছতে চলেছে, সেগুলিকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজরে রয়েছে দিল্লি-হাওড়া এবং দিল্লি-মুম্বই রুট।
দিল্লি-হাওড়া এবং দিল্লি-মুম্বই রুটে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি করে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার করার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে দূরপাল্লার ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পেয়ে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে তা বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছে যাবে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। রেল সূত্রের খবর, গতি বৃদ্ধি পেলে নন-এসি কোচগুলিতে হাওয়া এবং ধুলো সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হবে। তাই সেগুলিকে এসি কোচে পর্যবসিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
রেল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে এরকম ‘প্রোটোটাইপ’ এসি কোচ তৈরি হচ্ছে। যেখানে ৭২টির পরিবর্তে ৮৩টি বার্থ রাখা হচ্ছে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা প্রস্তুত হয়ে যাবে।
রেলমন্ত্রকের অতিরিক্ত মহানির্দেশক (জনসংযোগ) ডি জে নারায়ণ বলেছেন, ‘এই বছরে এরকম ১০০টি কোচ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছরে ২০০টি কোচ তৈরি করবে রেল। মন্ত্রক সূত্রের খবর, বার্থ বৃদ্ধি পেলেও সাইড-আপার এবং সাইড-লোয়ার আসনের মাঝখানে অতিরিক্ত মিডল বার্থ বসানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। কোচের ইলেক্ট্রিক্যাল ইউনিট এবং ব্ল্যাঙ্কেট-বেড শিট রাখার জায়গার সঙ্গে ‘অ্যাডজাস্ট’ করে একটি কোচে বাড়বে বার্থের সংখ্যা।
রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্তের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলি বাদ দিলে বর্তমানে অধিকাংশ রুটেই দূরপাল্লার মেল/এক্সপ্রেস চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে। রেলমন্ত্রকের ওই শীর্ষ কর্তা বলেছেন, ‘দিল্লি-মুম্বই এবং দিল্লি-হাওড়া রুটে ট্রেনের গতি বাড়ছে। ফলে নন-এসি থেকে এসি কোচে পরিণত করার ক্ষেত্রে এই রুটের ট্রেনগুলি রেলের নজরে রয়েছে। তবে যেসব মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি করা হবে না, সেগুলির নন-এসি কোচকে এখনই এসিতে পরিণত করা হচ্ছে না।’