পিএফে সুদ নিয়ে ধন্দে গ্রাহকদের  একাংশ

পিএফে সুদ নিয়ে ধন্দে গ্রাহকদের  একাংশ

গত অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২০-২১ সালের জন্য সুদ ঘোষণা করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। সুদের হার ৮.৫ শতাংশ।  গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এবছরও কি সুদ দিতে টালবাহানা করবে কেন্দ্রীয় সরকার? পাশাপাশি আরও একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পিএফ গ্রাহকদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক ৮.৫ শতাংশ শুধু ঘোষণা করলেও, তাতে এখনও সীলমোহর দেয়নি অর্থমন্ত্রক। যতক্ষণ না অর্থমন্ত্রকের তরফে সবুজ সঙ্কেত মিলছে, ততক্ষণ এই সুদ গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে না। গ্রাহকদের একাংশের আশঙ্কা, অর্থমন্ত্রক ৮.৫ শতাংশ সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে তো? নাকি কেন্দ্রীয় সরকার এখানেও কোনও ছলনার আশ্রয় নেবে, প্রশ্ন তাঁদের।
নিয়মমতো গত অর্থবর্ষের বকেয়া সুদ চলতি অর্থবর্ষের গোড়ায় পিএফ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়ার কথা। সেই হিসেব মতো গত মাসে, অর্থাৎ এপ্রিলেই সুদ পাওয়ার কথা গ্রাহকদের। কিন্তু তা মেলেনি। নরেন্দ্র মোদি সরকার সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরেই। গত বছর এই নিয়ে বিস্তর টানাপোড়েন চলছে সরকারের অন্দরেই। গতবছর মাসের পর মাস ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের সুদ আটকে রেখেছিল কেন্দ্র। অবশেষে তারা ঘোষণা করে, সুদ দেওয়া হবে দু'দফায়। প্রথমটি মিলবে দেওয়ালির সময় এবং পরেরটি পাওয়া যাবে ডিসেম্বর নাগাদ। কিন্তু নিজের দেওয়া কথা সরকার নিজেই রাখেনি। পুজোর পর বা দেওয়ালি নাগাদ সুদের ছিটেফোঁটাও তারা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা করেনি। সুদ দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বর পেরিয়ে জানুয়ারিতে। এর কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রক সামনে এনেছিল করোনা সংক্রমণের জেরে আর্থিক দুরাবস্থার কথা। গতবছর করোনা সংক্রমণ যতটা হয়েছিল, এবার তার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝাপটা অনেক জোরালো। তাই আর্থিক অবস্থার দোহাই এবারও সরকার তুলতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন গ্রাহকরা। সেই কারণেই সুদ কবে মিলবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।
পাশাপাশি পিএফের সুদের হার কমতে পারে বলে মনে করছেন গ্রাহকদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, শ্রমমন্ত্রীর যে ৮.৫ শতাংশ সুদ ঘোষণা করেছে, অর্থমন্ত্রক তাতে যদি সীলমোহর না দেয়, তাহলে নতুন করে সরকারকে সুদ ঘোষণা করতে হবে। বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে হয়তো শ্রম মন্ত্রক সুদের হার কমানোর ঝুঁকি নেয়নি, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। ভোটের পর অর্থমন্ত্রক বেঁকে বসলে সুদের হার কমতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তার কারণ, সাম্প্রতিককালে স্বল্প সঞ্চয় সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে ছলনার আশ্রয় নিয়েছে, তা ভুলে যাননি অনেকেই। সুদের হার এক ধাক্কায় অনেকটা কমানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরেও সরকার ঢোক গিলছে। ফের পুরনো হারই ঘোষণা করতে হয়েছে। এবারও পিএফের সুদকে ঘিরে সরকার নতুন কোনও খেলা দেখায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গ্রাহকরা।