ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে!

ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে!

 

ফ্রোজেন শোল্ডারের যন্ত্রণা যাঁর হয় তিনিই জানেন! এই সমস্যায় আক্রান্তদের হাত ব্যবহার করে ছোটখাট কাজ করতেও বেগ পেতে হয়। আসলে আমাদের কাঁধ এবং হাতের সংযোগস্থলের অস্থিসন্ধিতে দু’টি হাড়কে বেঁধে রাখার কাজ করে ক্যাপসুল নামক লিগামেন্ট। ফ্রোজেন শোল্ডার হলে এই ক্যাপসুল মোটা হয়ে যায়। এবার ক্যাপসুল মোটা হয়ে গেলে তার নমনীয়তা চলে যায়। এই নমনীয়তা কমে যাওয়ার কারণে হাড়ের গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি হাত নড়াতে গেলে তীব্র যন্ত্রণাও হয়।
কাদের আশঙ্কা বেশি?
 কাজকর্ম কম করেন, হাত, পা বেশি নাড়ান না— এমন মানুষের এই সমস্যা হতে পারে  শোল্ডার জয়েন্টে কোনও অপারেশন হয়ে থাকলে  হাতের হাড়ে ফ্র্যাকচার হলে  ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এছাড়া হাইপো বা হাইপার থাইরয়েড, পার্কিনসনস, স্ট্রোক সহ বেশ কিছু সমস্যায় আক্রান্তদেরও এই রোগ হতে পারে  বয়স ৪০-এর বেশি হলে  ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
লক্ষণ
এই রোগের উপসর্গ ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে হাত নড়াতে সমস্যা, কাঁধের জয়েন্টে অল্প ব্যথা থাকে। কয়েকমাস পর ব্যথা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে এবং হাতের গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়ে। রোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলে হাত সামান্য নাড়াতেও সমস্যা হয়। এই নির্দিষ্ট সময় জামাকাপড় পরা, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি ছোটখাট কাজও কঠিন হয়ে যায়। অনেকের রাতের দিকে ব্যথা বাড়ে। শুয়ে শুয়ে পাশ ফিরতে গেলেও ব্যথা হয়। সাধারণত এক হাতেই এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বা পরে অন্য হাতেও এই সমস্যা হতে দেখা গিয়েছে।
হোমিওপ্যাথিক ওষুধ
মূলত রোগীর লক্ষণ শুনেই চিকিৎসক রোগটি সম্বন্ধে ধারণা করে নেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোনও রোগ রয়েছে কি না জানতে এমআরআই, এক্স-রে প্রভৃতি কয়েকটি টেস্ট করার পরামর্শও দেওয়া হয়। রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগী ভেদে ওষুধ আলাদা হয়ে থাকে। এখানে ফ্রোজেন শোল্ডারে কার্যকরী এমন কয়েকটি ওষুধের কথা বলা হল—
রাসটক্স: শুয়ে-বসে থাকলে ব্যথা বাড়ছে, হাত ম্যাসাজ করলে বা নাড়াচাড়া করলে ব্যথা কমছে— এই অবস্থায় রাসটক্স ওষুধটি ভালো কাজ করে। এই ওষুধটি ক্যাপসুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে অত্যন্ত কার্যকরী।
স্যাঙ্গুনেরিয়া ক্যানেডেনসিস: ডানদিকের কাঁধের অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলে এই ওষুধটি বেশি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগীর রাতে ব্যথা খুব বেড়ে যায়, ঘুমানোর সময় একটু হাত নড়াচড়া করলেই প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়, হাত তুলতে গেলে ব্যথা হয়, গরম সেক দিলে আরাম হয়— ইত্যাদি লক্ষণে এই ওষুধের ব্যবহার চলে।
ফেরাম মেটালিকাম: বাঁদিকের কাঁধের জয়েন্টে ব্যথা, কাঁধ থেকে ব্যথা হাতের নীচের দিকে কনুই পর্যন্ত চলে আসছে, হাত উপরে তুলতে গেলে ব্যথা হয়, হাত অল্প নড়াচড়া করলে ব্যথা কমে, গরম সেকে ব্যথা কমে— এমন উপসর্গে এই ওষুধটি ভালো কাজ করে।
এছাড়াও আরও কয়েকটি ওষুধের ব্যবহার হয়— ব্রায়োনিয়া, ফাইটোলক্কা, ক্যালকেরিয়া ফস, রডোডেনড্রন, থুজা, গুয়েকাম, আরনিকা ইত্যাদি। মনে
রাখবেন, শুধুমাত্র ওষুধ খেয়ে এই রোগে কাজ মেটে না। সমস্যা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বিভিন্ন ব্যায়াম করতে হবে।