বাজেট কমেছে পুজোর, মানবিকতার নয় বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি, লালাবাগান নবাঙ্কুর, ট্যাংরা ঘোলপাড়া

বাজেট কমেছে পুজোর, মানবিকতার নয় বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি, লালাবাগান নবাঙ্কুর, ট্যাংরা ঘোলপাড়া

 ‘হ্যাঁ, কী সব বিমা-টিমার কথা বলছিলেন যেন! উনারাই অবশ্য সব করে দিছেন। কার শরীলে কী আছে কে জানে... দ্যাশে ফিরার পর যদি করোনা হয়, হঠাৎ করে টাকার চিন্তে করতে হবে লা।’
মুখের সঙ্গে মেদিনীপুর থেকে আসা কারিগরের হাতও চলছে সমান তালে। শিল্পী শিবশঙ্কর দাসের তত্ত্বাবধানে লোহার খাঁচায় গড়া হচ্ছে ওপেন এয়ার প্যান্ডেল। চোখ তীক্ষ্ণ ধারালো বাটালির দিকে। স্কেল ধরে ধরে সানমাইকা কেটে বসানো হচ্ছে লোহার কাঠামোয়। ফাইনাল টাচের জন্য রয়েছে কাপড় আর গামছা।
‘এগুলো কিন্তু কোনও বড় দোকান থেকে নয়, কেনা হয়েছে পথচলতি ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে। গোটা লকডাউন যা কেটেছে ওঁদের! আর পুজোর সময়ে এই খোপগুলিতে গৃহস্থের টুকিটাকি জিনিসের প্রদর্শনী হবে। কোভিড বিধির জন্য কেউ অবশ্য তা কিনতে পারবেন না। তবে ১৩ জন শিল্পীকে দৈনিক ভাতা দেব আমরা। আড়ম্বর নয়, এবার আমাদের পুজো মানবিকতার’, এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলেন পরিমল দে। বেলেঘাটা ৩৩ পল্লিবাসীবৃন্দ পুজো কমিটির সভাপতি। কথায় বলে, দুঃসময়েই নাকি আসল মানুষ চেনা যায়। করোনা আবহে এই প্রবাদের মর্মার্থ আরও প্রাসঙ্গিক। সেই ভাবনাকে হাতিয়ার করেই এবার দেবী বন্দনার আয়োজন করছে এই পুজো কমিটি। ২০তম বর্ষে তাদের থিম ‘স্বজন’।
লকডাউনের জেরে বাকিদের মতো এই পুজোকেও লড়াই করতে হচ্ছে আর্থিক জোগান নিয়ে। এবার একধাক্কায় বাজেট কমেছে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। তা সত্ত্বেও এই ‘মানবিক’ দায়িত্ববোধ পালনে ব্যস্ত তারা। ৪০ জন কারিগরের মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকার ‘করোনা কবচ’, ফেরিওয়ালাদের থেকে প্যান্ডেলের সিংহভাগ উপকরণ কেনা কিংবা শিল্পীদের দৈনিক ভাতা তারই অঙ্গ। আসলে গোটা আবহটাই ‘স্বজন’ময় করে তুলতে বদ্ধপরিকর ১৬ বছর আগে থিমের লড়াইয়ে নামা এই পুজো।
থিমের নাম পৃথক হলেও, লক্ষ্য একই ‘লালাবাগান নবাঙ্কুর’-এর। গতবারের থেকে বাজেট কমেছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু তা দিয়ে শুধুমাত্র পুজোর আড়ম্বর নয়, সমাজসেবাও ‘অবশ্য করণীয়’-এর তালিকায় এই পুজো কমিটির। তাদের মূল লক্ষ্য থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পাশে দাঁড়ানো। এবছর ৬১তম বর্ষে পদার্পণ করছে এই পুজো। একাধিকবার এশিয়ান পেইন্টস জয়ী শিল্পী প্রশান্ত পালের হাতে গড়ে উঠছে হরেক রঙের শামিয়ানার মণ্ডপ। এটাই এবার তাদের থিম। সম্পাদক তাপস কুমার রায় বলেন, ‘হিন্দু উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত শামিয়ানা। তা দিয়েই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে বরণ করছি আমরা।’