বাজারে গুজবের আতঙ্কে

বাজারে গুজবের আতঙ্কে
বাজারে গুজবের আতঙ্কে

বাজারে গুজবের আতঙ্কে জিনিসপত্র অগ্নিমূল্য, কালোবাজারি রুখতে পুলিসের অভিযানে ধৃত ১৬

 দক্ষিণ ২৪ পরগনা: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে জেলা জুড়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যথা চাল, আটা, আলু, ডিম ও ডালের কালোবাজারি শুরু হয়েছে। কৌশলে গুজব রটিয়ে দেওয়া হয়, এরপর কোনও জিনিস আর পাওয়া যাবে না। ফলে স্বাভাবিক দামের চেয়ে চার থেকে পাঁচগুণ দামে বিকিয়েছে ওই সব জিনিস। কালোবাজারিদের একটি চক্র তাতে পরোক্ষভাবে মদত দিয়ে তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাতে অগ্নিমূল্য হয়েছে জিনিসপত্রের দাম। কোথাও কোথাও আলুর প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চালের দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এটা শুরু হলেও শুক্রবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিনই বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের কর্তারা বারুইপুর, ডায়মন্ডহারবার ও সুন্দরবন তিন পুলিস জেলার সুপারদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, কালোবাজারি কোনও ভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে কথা বলেছি। বারুইপুর পুলিস জেলার সুপার রশিদ মুনির খান বলেন, প্রতিটি থানাকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সুন্দরবন পুলিস জেলার সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, এদিন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের নিয়ে বাজারে বাজারে অভিযান চালানো হয়। সব মিলিয়ে এদিন রাত পর্যন্ত চড়া দামে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে ১৬ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। যদিও ডায়মন্ডহারবার পুলিস সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে রাত পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছেন কী না-তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
এদিকে, চাল, আটা, ডাল, ডিম ও আলু নিয়ে কালোবাজারির জেরে আতঙ্কিত জেলার মানুষ। শুধু তাই নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় ওই সব জিনিস নিয়ে বেআইনি ফাটকাবাজির জন্য শুক্রবার সকাল থেকে গড়িয়া, নরেন্দ্রপুর, রাজপুর, সোনারপুর, চম্পাহাটি, বারুইপুর, ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা, মহেশতলা, আমতলা, বিষ্ণুপুর, ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, কুলপি, মন্দিরবাজার, মথুরাপুর, রায়দিঘি, কাকদ্বীপ, সাগর ও পাথরপ্রতিমায় বাজারে বাজারে ভিড় জমায় মানুষ। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জিনিস কেনার ঝোঁক দেখা যায় ক্রেতাদের মধ্যে। চম্পাহাটিতে এদিন সকালে তিন লরি আলু ঢোকার আধঘণ্টার মধ্যে তা বিক্রি হয়ে যায়। দুপুরের পর জেলার বেশ কিছু পাইকারি বাজারে মজুত চালের বস্তাও উধাও হয়ে যাওয়াতে ক্রেতাদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। এই সুযোগ নিয়ে অনেক দোকানে চাল, আটা থেকে আলুর ফাটকাবাজি শুরু হয়। সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক জীবন মুখোপাধ্যায় এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাজপুর-পুরসভার চেয়ারম্যান বাজার বাজার ঘুরে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। পুলিসও বিভিন্ন জায়গাতে অভিযান চালিয়েছে।