বিপাকে কমলনাথের সরকার, ইস্তফা মধ্যপ্রদেশের ২২ জন বিধায়কের

বিপাকে কমলনাথের সরকার, ইস্তফা মধ্যপ্রদেশের ২২ জন বিধায়কের
বিপাকে কমলনাথের সরকার, ইস্তফা মধ্যপ্রদেশের ২২ জন বিধায়কের

বিপাকে কমলনাথের সরকার,ইস্তফা মধ্যপ্রদেশের ২২ জন বিধায়কের

 মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন কমলনাথ সরকারের ৬ জন মন্ত্রীসহ মোট ২২ জন বিধায়ক। এর ফলে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে গতকালই ইস্তফা দেওয়ার পরই কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক বেঙ্গালুরু উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই জল্পনা আরও তীব্রতর হয়েছে। আপাতত তাঁরা সকলেই বেঙ্গালুরুর একটি বিলাসবহুল রিসর্টে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কংগ্রেস সংসদ সদস্য জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ। সূত্রের খবর, বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিম্বাভালি এই কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। গতকালই জ্যোতিরাদিত্যও দিল্লি থেকে ভোপালে গিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছিল বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তিনি। আজ, মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার পরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন। ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে। তাতে লেখেন সময় এসেছে এগিয়ে যাওয়ার। অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জানানো হয় দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ট্যুইট করে বলেন, মানুষের বিশ্বাসের পাশাপাশি আদর্শের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন সিন্ধিয়া। এই ঘটনা প্রমাণ করছে, কিছু মানুষ ক্ষমতা ছাড়া থাকতে পারেন না। এরা যত তাড়তাড়ি দল থেকে বিদায় নেবেন ততই ভালো। জ্যোতিরাদিত্যের পদত্যাগে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীও। তিনি বলেন, মন্ত্রিত্বের প্রলোভনেই দল ছেড়েছেন সিন্ধিয়া। কংগ্রেসে রাজার মতো ছিলেন তিনি, বিজেপিতে গিয়ে প্রজা হতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে সোমবার বিধায়কদের ইস্তফার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দেখা করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা। পরে দলের বর্ষীয়ান নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের সঙ্গেও দেখা করেন কমলনাথ। বিজেপি ঘোড়া কেনাবেচার খেলা খেলছে বলে এর আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন দিগ্বিজয় সিং। এদিকে ১৬ মার্চ থেকে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার অধিবেশেন শুরু হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে সেখানে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বিজেপি। ২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় কমলনাথের হাতে এখন রয়েছে ১২০ জন বিধায়ক। ম্যাজিক ফিগার ১১৬। অর্থাৎ তার চেয়ে মাত্র চার জন বেশি রয়েছেন। এর মধ্যে কংগ্রেসের ১১৪ জন, বসপার ২ জন, সপা-র একজন এবং বাকিরা নির্দল। ফলে খুব নিরাপদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কংগ্রেসের। অন্য দিকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা বর্তমানে ১০৯। এর মধ্যে দুটি আসন শূন্য। ফলে এই বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দিলে গেরুয়া শিবিরের পক্ষে সরকার গঠনে মোটেই অসুবিধা হবে না। যদিও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের দাবি, চিন্তার কিছু নেই। শীঘ্রই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।