বর্ধমানের রাস্তায় শ্যুটআউট, লুট ১৫ কোটির সোনা

বর্ধমানের রাস্তায় শ্যুটআউট, লুট ১৫ কোটির সোনা
বর্ধমানের রাস্তায় শ্যুটআউট, লুট ১৫ কোটির সোনা

শুক্রবারের ভরদুপুর। ব্যস্ত বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত বিসি রোড। ঢিলছোঁড়া দূরত্বে থানা! সেই প্রাণকেন্দ্রেই দুঃসাহসিক ডাকাতি। একটি স্বর্ণবন্ধকী সংস্থা থেকে ১৫ কোটি টাকার সোনা লুট করে চম্পট দিল সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। ম্যানেজারের মুখে পিস্তুলের নল ঢুকিয়ে লুটপাট চালায় তারা। পালানোর সময় গুলিও চালায় বেপরোয়া দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম হীরামন মণ্ডল। দুষ্কৃতীদের পথ আটকাতে গিয়েই আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হীরামন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিস জানিয়েছে, ওই স্বর্ণবন্ধকী সংস্থার দাবি মতো দুষ্কৃতীরা প্রায় ৩০কেজি সোনা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। যার আনুমানিক বাজারদর প্রায় ১৫ কোটি টাকা। দুষ্কৃতীদলে মোট ছ’জন ছিল বলে জানা গিয়েছে। সবার মুখ ঢাকা ছিল মাস্কে। বাইকে চেপে এসেছিল তারা। প্রথমে সংস্থার কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে। পরে মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভল্ট থেকে সোনা লুট করে দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়েই জেলার পুলিস সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় সহ পদস্থ অফিসাররা ঘটনাস্থলে আসেন। রাত পর্যন্ত পুলিস কাউকে ধরতে পারেনি। পুলিস সুপার বলেন, ‘সিসিটিভি’র সব ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করছি। গোটা জেলায় নাকাচেকিং শুরু হয়েছে। আশপাশের জেলাগুলিকেও জানানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সংস্থার কর্মীরা জানিয়েছেন, অফিসে ছ’জন দুষ্কৃতী ঢুকেছিল। তার মধ্যে দু’জন হেলমেট পরেছিল। সবার হাতেই ছিল পিস্তল। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রথমে দু’জন গ্রাহক সেজে ঢোকে। তারপর একসঙ্গে চারজন ঢুকে পড়ে। অফিসে ঢুকেই দুষ্কৃতীরা পিস্তল উঁচিয়ে কর্মীদের মারধর শুরু করে। এক কর্মী বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজারের মুখে পিস্তলের নল ঢুকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় ওরা। সকলকে হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে পড়তে বলে। আমাদের সামনে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিল ওরা।’ পলাশ মণ্ডল নামে এক কর্মীর কথায়, ‘প্রায় ৩০.৫ কেজি সোনা লুট করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ওরা বাংলাতেই কথা বলছিল।’ কর্মীরা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা ভল্টে ঢুকতেই অ্যালার্ম বেজে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে ওরা অ্যালার্মের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আধ ঘণ্টা ধরে অবাধে লুটপাট চালায়।
অপারেশন শেষ করে দুষ্কৃতীরা যখন নীচে নামছিল, তখন হীরামনবাবু দোতলার অফিসে উঠছিলেন। সিঁড়িতে তাঁর সঙ্গে দু’জন দুষ্কৃতীর ধাক্কা লাগে। দুষ্কৃতীরা এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে নেমে যায়। হীরামনবাবুও তাদের পিছু ধাওয়া করেন। নীচে নেমেই দুষ্কৃতীদের একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন তিনি। বেগতিক বুঝে অন্য দুষ্কৃতীরা বিসি রোডে দাঁড়িয়েই দু’রাউন্ড গুলি চালায়। একটি হীরামনবাবুর পিঠে লাগে। তাতেও তিনি হাল না ছাড়ায় দুষ্কৃতীরা তাঁর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘাত করে। তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এরপর দুষ্কৃতীরা ওই সঙ্গীকে বাইকে তুলে চম্পট দেয়। এদিন লোনের বিষয়ে জানতে সংস্থায় যাচ্ছিলেন হীরামনবাবু। তিনি বলেন, ‘গুলিতে দুষ্কৃতীদের মধ্যে একজনও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওই অবস্থাতেই সে পালিয়ে গিয়েছে।’