বাহুল্য বর্জনের মাধ্যমে সামাজিক কর্তব্য পালনে ব্যস্ত বেহালার পুজো

বাহুল্য বর্জনের মাধ্যমে সামাজিক কর্তব্য পালনে ব্যস্ত বেহালার পুজো

করোনাকালে কর্মহীন বহু মানুষ। নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শারদোৎসবকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছিলেন একাধিক পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষরা। যা কিছুটা হলেও সফল। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেহালার দুর্গাপুজো কমিটিগুলি। থিমের চাকচিক্য উপলক্ষ্য মাত্র। লক্ষ্য মাতৃ আরাধনা। এবার আড়ম্বর বর্জন করার মধ্যে দিয়েই সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত বেহালা ক্লাব, ২৯ পল্লি, আদর্শ পল্লি, বড়িশা সর্বজনীন।
স্বল্প পরিসরে পুজোর আয়োজন করেছে বেহালা ক্লাব। বাজেটও কমেছে অনেকটাই। দর্শকরা রাস্তা থেকেই প্রতিমা দেখার সুযোগ পাবেন। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সংক্রমণ এড়ানোই উদ্যোক্তাদের প্রধান লক্ষ্য। বেহালা ক্লাব পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘রাজবাড়ীর আদলে মণ্ডপ। শিল্পী ও কারিগরদের পারিশ্রমিকে কার্পণ্য করা হয়নি। এটাই আমাদের প্রাপ্তি। সংক্রমণ রুখতে দু’টি এক্সিট পয়েন্ট রাখা হয়েছে মণ্ডপে।’ অন্যদিকে, করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে শারদোৎসবে ব্রতী ২৯ পল্লি। এবার তাদের থিম ‘টান’। ভাবনায় রয়েছেন দীপ দাস এবং ঈশিকা চন্দ্র। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ আর্থিক কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির মূল উদ্যোক্তা সৌরভ ঘোষ। সরকারি নির্দেশিকা মেনে মণ্ডপের তিনদিক খোলা থাকবে। গত বছরের কারিগরদের দিয়েই এবার মণ্ডপ সাজিয়েছে তারা। নিয়ে আসা হয়েছে নদীয়ায় বসবাসকারী লকডাউনে কর্মহীন বেশকিছু কারিগরকে। ‘আড়ম্বরে নয়, অর্চনায় আমরা সবাই’! না থিম একেবারেই নয়। এটাই এবারের বার্তা বেহালার আদর্শপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন ঘোষের কথায়, ‘করোনা আবহে মানবিকতার খাতিরে আড়ম্বরের ধারেকাছে নেই আমরা। পুজোয় থাকছে সাবেকিয়ানার স্পর্শ। মাতৃমূর্তিও একেবারে ছিমছাম। মণ্ডপের প্রবেশদ্বার বিশাল। রাস্তা থেকেও ঠাকুর দেখতে পারবেন সাধারণ মানুষ।’ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘রূপান্তর’-এর ভাবনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে বড়িশা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। শিল্পী দেবাশীষ বাড়ুই জানিয়েছেন, ‘আমাদের পারিপার্শ্বিক সবকিছুই প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। পুরনো অবস্থাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন পথে পা বাড়াচ্ছে জনজীবন। এই ভাবনকে আমরা তুলে ধরতে চাইছি। লকডাউন আমাদের জীবনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই প্রয়োজন মায়ের আশীর্বাদ। শিল্পের মাধ্যমে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাইছে বড়িশা সার্বজনীন।’
 বেহালা নতুন দলের প্রতিমার চক্ষুদান শিল্পী সনাতন দিন্দার।