ভোটার তালিকা ধরে ভ্যাকসিন বণ্টনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৫০ পেরলে টিকায় মিলবে অগ্রাধিকার

ভোটার তালিকা ধরে ভ্যাকসিন বণ্টনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৫০ পেরলে টিকায় মিলবে অগ্রাধিকার

আশাতীত হারে কমছে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। শনিবারই সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে আট লক্ষের নীচে। দেড় মাসে এই প্রথম। বছর ঘোরার আগে টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা যথেষ্ট। তাই তা বণ্টনের প্রস্তুতিও তুঙ্গে। কারা আগে প্রতিষেধক পাবেন, তা চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার পাবেন পঞ্চাশোর্ধ্বরাই। করোনায় তাঁদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। তবে তার আগে টিকা পাবেন হাসপাতালে কর্তব্যরত এবং রাস্তায় মানুষকে সচেতন করার কাজে নামা কোভিড-যোদ্ধারা। এছাড়া কো মর্বিডিটি বা জটিল রোগে আক্রান্ত হলে কমবয়সিরাও প্রথম পর্যায়ে টিকা পেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে বাছাই করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণ কমার প্রবণতা নজিরবিহীন। এই প্রথম বড়সড় সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিন বিকেলে ভ্যাকসিন নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটার তালিকা ধরে টিকা বণ্টনের পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। মোদি নিজেও দ্রুত ভ্যাকসিন আসা নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে করোনা সংক্রমণ কমছে, এটা ভারতের বিশেষ সাফল্য। দেশে মোট তিনটি ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে। একটির তৃতীয় দফার ট্রায়াল চলছে। অন্য দু’টি রয়েছে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা পর্বে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের কোনায় কোনায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে প্রতিটি পদক্ষেপে তৎপর হতে হবে। ইতিমধ্যেই কোল্ড স্টোরেজ চেন, বণ্টনের নেটওয়ার্ক, নজরদারি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এক্ষেত্রে নির্বাচন এবং বিপর্যয় মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। শুধু রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, জেলা স্তরের প্রশাসন মাঠে নামলে হবে না। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাও তৈরি করা দরকার। শুধু দেশবাসী নয়, ভারতে তৈরি ভ্যাকসিন যাতে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও পৌঁছায়, সেই চেষ্টাও চলবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৯৫ হাজার। গত দেড় মাসে এই প্রথম তা আট লক্ষের নীচে নামল। এই একদিনে ৬২ হাজার ২১২ জন নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৮১৬। দেশে মোট আক্রান্ত সংখ্যা এখন ৭৪ লক্ষের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৭ জন মারা গিয়েছেন। গত মাসে একদিনে সংক্রামিতের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ৯৫ হাজারে। তা বিগত কয়েকদিনে ৫৫ হাজার থেকে ৬৮ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মৃত্যুহারও কমতে কমতে এই প্রথম দেড় শতাংশে নেমে এসেছে। এই প্রবণতা দেখে আশাবাদী কেন্দ্র। এভাবে আর কিছুদিন চললেই বুঝতে হবে, নিত্য সংক্রমণের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করে ফেলেছে করোনা। এবার আক্রান্ত সংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ার পালা।
সিরাম ইনস্টিটিউট শুক্রবারই ঘোষণা করেছে, তারা আগামী ডিসেম্বর মাসে সাত কোটি ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে বলে আশাবাদী। এই পরিস্থিতিতে টিকা বণ্টন ও প্রদানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। ১৩৫ কোটি ভারতবাসীর মধ্যে কারা অগ্রাধিকার পাবেন, সেব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে, সবার আগে আপৎকালীন ভিত্তিতে ৩০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ প্রয়োজন। প্রথম টিকা প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা। তাদের সংখ্যাটা প্রায় ৭০ লক্ষ। ২ কোটি নিরাপত্তাবাহিনী, সাফাইকর্মী, পুলিশকেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর পরেই অগ্রাধিকার পাবেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং তার কম বয়সের কিডনি, ডায়াবেটিস, সিওপিডি ইত্যাদি সমস্যা থাকা ব্যক্তিরা। এরকম ২৬ কোটি মানুষকে বাছাই করা হবে। তার জন্য পুরসভা, গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্র-রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও পৃথকভাবে টিকা প্রদান কেন্দ্র খোলা হবে।