ভোটের ফল আসতেই  খাঁ খাঁ বিজেপির অফিস মোদি-শাহের ব্যর্থতা বলছেন অনেকেই

ভোটের ফল আসতেই  খাঁ খাঁ বিজেপির অফিস মোদি-শাহের ব্যর্থতা বলছেন অনেকেই

 পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল নিশ্চিত ধরে নিয়ে গতকাল রাত থেকেই তৈরি হচ্ছিল বিজেপি। রাজ্যের হেস্টিংসের অফিসের ছিল এলাহি ব্যবস্থা। প্রত্যেকটি মিডিয়া হাউসের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা হয়েছিল পাঁচ তলায়। কিন্তু এদিন বেলা বাড়তেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের জয়ের খবর আসতে শুরু করে। বিজেপি অফিসে কার্যত রাতের অন্ধকার নেমে আসে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হতাশ বিজেপি প্রার্থী ও কর্মীদের বার্তাও এসে পৌঁছয় হাইটেক এই বিজেপি দপ্তরে। কৈলাস বিজয়বর্গীয় সহ হাতে গোনা দুই একজন নেতা এলেও বেশিরভাগ গেরুয়া নেতা এদিন পার্টি অফিস মাড়াননি। বেলা কিছুটা বাড়তে হেস্টিংসের পার্টি অফিসের বাইরে তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক জড়ো হতে শুরু করে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় লালবাজার থেকে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়। একই অবস্থা ছিল দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে এদিনের ছবি বাস্তবিকই নজিরবিহীন। প্রতিটি প্রবেশ পথ তালা বন্ধ। প্রবেশ বন্ধ হলেও পার্টি অফিসের বাইরেও সেভাবে ভিড় নেই।
ভোটের ফল বেরতেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। ফোনে একাধিক বিজেপি নেতা এই ফলাফল নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ সরাসরি নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের ব্যর্থতা হিসেবেই এই ফলাফলকে বিশ্লেষণ করছেন। অনেকে আবার তৃণমূল ফেরত নেতাদের জামাই আদর দিয়ে প্রার্থী করার ঘটনাকে দায়ী করছেন। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় সকালে জানান, বাম এবং কংগ্রেসের একটা বড় অংশের ভোট এবার তৃণমূল গিয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ দফার পর থেকে বাংলায় করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফকেও হারের জন্য দায়ী করেছেন তিনি। কৈলাস এর মতে, বিজেপির বহু সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষী করোনা আতঙ্কের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন সকাল থেকেই নিউটাউনের বাড়িতেই গৃহবন্দি থেকেছেন। রাতে দিলীপবাবু জানান, জনতার রায় মাথা পেতে নিচ্ছি। আমরা মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারিনি। হারের কারণ বিশ্লেষণ করা হবে। যে দায়িত্ব জনতা আমাদের দিয়েছে, তা পালন করব। দলের অন্যতম সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে জনতার রায় হিসেবে মেনে নিয়েছেন। 
এদিন বিজেপির দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অবস্থাও তথৈবচ। শুনশান দলের সদর দপ্তর। আক্ষরিক অর্থেই সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ছাড়া আর কেউ নেই। মিডিয়া প্রবেশও বন্ধ। ‘আব কি বার, ২০০ পার’ করা যায়নি। নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খাঁ খাঁ করছে। অথচ অসমে ফের ক্ষমতায় ফিরছে তারা। পুদুচেরিতেও সরকার গড়ার পথে এনডিএ। তামিলনাড়ু বা কেরল নিয়ে তো বিজেপি বিশেষ আশাবাদী ছিল না। তাহলে এমন হাল কেন? আসলে বিজেপির পাখির চোখ ছিল পশ্চিমবঙ্গই। ফলে অসমে ফের দলের জয়ের ইঙ্গিত বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। রবিবার সন্ধ্যায় পার্টি অফিসেও আসেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অবশ্য বিজেপি সরকারিভাবে বলছে, করোনার কারণে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রবিবার যা হবে, তার পুরোটাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে। সেইমতোই বন্দোবস্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা হয়েছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এভাবে বিপর্যস্ত হল কেন, অবিলম্বে তার রিপোর্ট পাঠাতে বলেছেন অমিত শাহ