ভারতের সম্মানে আঁচ লাগলে বরদাস্ত নয়

ভারতের সম্মানে আঁচ লাগলে বরদাস্ত নয়
ভারতের সম্মানে আঁচ লাগলে বরদাস্ত নয়

চীনকে হুঁশিয়ারি ভারতের

ভারতের সম্মানে আঁচ লাগলে বরদাস্ত করব না।’ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাতাবরণের মধ্যে সোমবার এভাবেই চীনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মহারাষ্ট্র বিজেপির এক ডিজিটাল প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বললেন, ‘চীনের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত আমাদের আলোচনা ইতিবাচক। কিন্তু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনওরকম আপস করবে না ভারত।’ বস্তুত এভাবেই ভারত আজ বুঝিয়ে দিয়েছে, নয়াদিল্লির নরমপন্থী মনোভাবকে চীন যেন দুর্বলতা মনে না করে। আচমকা ভারতের এই আগ্রাসী অবস্থানের নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে গ্লোবাল টাইমসের একটি রিপোর্ট। চীনের সরকারি মিডিয়া ‘গ্লোবাল টাইমস’ আজ জানিয়েছে, লাদাখ থেকে চীন সেনা সরাবে না। সরকারি মিডিয়ার মাধ্যমেই চীন সর্বদা নিজের অবস্থানের বার্তা দেয়। সেখানেই বলা হয়েছে, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দু’পক্ষের সেনাস্তরের বৈঠক হয়েছে। সমাধানসূত্র পাওয়ার জন্য দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সীমান্তে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই মীমাংসা করা হবে।
অর্থাৎ, আজ চীন বুঝিয়ে দিয়েছে, এখনই লাদাখ সীমান্তের কোনও অংশ থেকে তাদের সেনা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সেনা স্তরের বৈঠকের পর ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও চীনের সেনা একইভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় বিপুল সংখ্যায় দাঁড়িয়ে আছে। ফলে দিল্লির সঙ্গে বেজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশের তিন সামরিক প্রধানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতও।
শুধুই লাদাখ সীমান্তে সেনা মোতায়েন নয়, চীনের অন্য পরিকল্পনাও ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবং আরও বেশি করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করার লক্ষ্যে চীন এবার বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় মেডিক্যাল প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেপালে যে প্রতিনিধি দল যাওয়ার কথা, তারা সরাসরি পিপলস লিবারেশন আর্মির মেডিক্যাল টিম। জানা যাচ্ছে, নেপাল এই প্রতিনিধিদলের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছে। নেপালে গিয়ে প্রায় দু’সপ্তাহ থাকবে এই টিম। এর আগে বাংলাদেশের করোনা আক্রান্ত স্থানগুলিতেও চীনের একটি মেডিক্যাল টিমের যাওয়ার কথা। গত মাসেই চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে এই টিম পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর এমনই একটি টিম যাবে শ্রীলঙ্কায়। অর্থাৎ ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে কৌশল নিয়ে এগচ্ছে চীন।
অন্যদিকে, চীনের এই আগ্রাসী মনোভাব দেখার পর ভারতও লাদাখ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নির্মাণকার্য পুরোদমে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের কথা হয়েছে। তারা লাদাখের সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক এবং অন্য পরিকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আসতে চা‌঩ইছে। সেই লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে অনুরোধ করা হয়েছে, তিনি যেন তাঁর রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের তালিকাভুক্ত করে লাদাখে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন। অর্থাৎ চীনের আপত্তি অগ্রাহ্য করে ভারতও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সড়ক ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।