ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তোলাবাজি, কুৎসা ভোটের আগে নিশানায় পুলিস, রাজনৈতিক অঙ্ক দেখছে রাজ্য

ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তোলাবাজি, কুৎসা ভোটের আগে নিশানায় পুলিস, রাজনৈতিক অঙ্ক দেখছে রাজ্য

 উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুলিসকর্তাদের নামে ফেসবুকে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। আর এর নেপথ্যে বড়সড় ‘ষড়যন্ত্রের’ আঁচ পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। শুধু ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলাই নয়, ওই পুলিস কর্তাদের নাম ব্যবহার করে রীতিমতো ‘তোলাবাজি’ চালাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। উর্দিধারী পুলিস কর্তার আবেদনে সাড়া দিয়ে অনেকেই আবার নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। কয়েক মাস পরে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বাছাই করে পুলিস কর্তাদের কালিমালিপ্ত করার এহেন প্রয়াসের পিছনে রাজনৈতিক কোনও অভিসন্ধি রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নারদ ইস্যু সামনে এনে নানাভাবে বিব্রত করার চেষ্টা হয়েছিল রাজ্যের শাসকদলকে। এবার সেরকমই কোনও ‘ফন্দি’ এঁটে বাংলার পুলিস কর্তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য। কারণ, ইতিমধ্যেই ওই সমস্ত ভুয়ো অ্যাকাউন্টের পোস্টকে ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়েছে একটা অংশ। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত, ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা চাইছেন পুলিস কর্তারা—এই প্রচারই ওই অংশের মূল লক্ষ্য বলে তদন্তকারীরা বলছেন। রায়গঞ্জ পুলিস জেলার সুপার সুমিত কুমার, শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এসিপি স্বপন সরকার এবং উত্তর দিনাজপুরের ডিএসপি গোবিন্দ শিকদারের পর সাইবার অপরাধীনের নিশানায় এসেছেন চন্দননগরের পুলিস কমিশনার হুমায়ূন কবির এবং মালদহের পুলিস সুপার অলোক রাজোরিয়া। পুলিস কর্তাদের কালিমালিপ্ত করার এই প্রচেষ্টার নেপথ্যের লোকজনকে খুঁজে বের করতে সাইবার ক্রাইম শাখার সঙ্গেই তদন্তে নেমেছে সিআইডিও।
পুলিস কর্তাদের নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার ঘটনার তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, সাইবার অপরাধীদের এই চক্রটি আন্তঃরাজ্যের। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সাইবার ক্রাইম গ্যাং রয়েছে এর পিছনে। রাজ্যের একটি অংশ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। কী ভাবে জানা গেল এদের বিষয়ে? তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগগুলি আসার পরই আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করার কাজ শুরু হয়। সেখান থেকে উঠে আসে এই রাজ্যগুলির নাম। যে সমস্ত আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা হয়েছে, তার মধ্যে চারটি এই রাজ্যের। সেগুলির ব্যবহাকারীদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে।
কীভাবে চলছে ফেসবুকে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ? তদন্তকারীরা বলছেন, ইন্টারনেট বা আনলক প্রোফাইল থেকে সাইবার অপরাধীরা ‘টার্গেট’-এর ছবি বাছাই করছে। খোলা হচ্ছে নতুন প্রোফাইল। টার্গেট করা পুলিস কর্তাদের উর্দিধারী ছবি ব্যবহার করছে দুষ্কৃতীরা। আনলক প্রোফাইল থেকে ফ্রেন্ড লিস্ট কপি করে নতুন অ্যাকাউন্টে তা যুক্ত করা হচ্ছে। এরপর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন জনকে। এরপর দাবি করা হচ্ছে অর্থ। তদন্তকারীরা বলছেন, জাল নথি দিয়ে মোবাইলের সিম জোগাড় করা হচ্ছে। সেই নথি দিয়েই খোলা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এরপর পুলিস কর্তার ফেসবুকের ভুয়ো প্রোফাইল থেকে ফ্রেন্ডদের কাছে আর্জি, আর্থিকভাবে বিপদের মধ্যে আছি। ওই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান।