মাত্র ১০ মিনিটেই করোনা টেস্ট, তাক লাগালেন প্রবাসী দুই বাঙালি বিজ্ঞানী

মাত্র ১০ মিনিটেই করোনা টেস্ট, তাক লাগালেন প্রবাসী দুই বাঙালি বিজ্ঞানী
মাত্র ১০ মিনিটেই করোনা টেস্ট, তাক লাগালেন প্রবাসী দুই বাঙালি বিজ্ঞানী

 কলকাতা: আর ছ’-সাত ঘণ্টা নয়। মাত্র ১০ মিনিটের পরীক্ষা। তাতেই ধরা পড়বে করোনা। পজিটিভ হলে কিটের রং বেগুনি থেকে পাল্টে হবে নীল। দেখা যাবে খালি চোখেই। সৌজন্যে ন্যানোটেকনোলজি। এই পদ্ধতি বের করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের এক খ্যাতনামা বাঙালি বিজ্ঞানীর টিম। এটিও র‌্যাপিড টেস্ট। তবে, এতে ভুলচুক হওয়ার আশঙ্কা নেই—এমনই দাবি তাঁদের। সোনার ন্যানো পার্টিকেল (কণা), কয়েকটি নিউক্লিক অ্যাসিড ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করে বানানো হয়েছে এই কিট। যা তৈরি করাও সহজ, জানিয়েছেন বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই টিমের প্রধান অধ্যাপক ডঃ জয় দীপাঞ্জন পান। আইআইটি খড়গপুরের এই প্রাক্তনী ছাড়াও ঩গবেষকদলে রয়েছেন ডঃ পরীক্ষিত মৈত্র নামে আর এক বাঙালি বিজ্ঞানী। শুক্রবার আমেরিকা থেকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের অধিকর্তা ডঃ পান বলেন, ‘ন্যানো প্রযুক্তিতে কিটটি এমনভাবে তৈরি, যাতে সার্স, মার্স, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনার অন্য ভাইরাস নয়—শুধুমাত্র কোভিড-১৯-কেই শনাক্ত করবে। এই প্রযুক্তিতে বাড়িতেও করোনা পরীক্ষা করার মতো কিট বানাচ্ছি আমরা।’ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই টেস্ট কিট বাজারে আনলে পরীক্ষার খরচ পড়বে কমবেশি ১০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৫০ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হলে খরচ কমে মাথাপিছু ৪-৫ ডলার (বড়জোর ৩০০-৩৭৫ টাকা) হতে পারে। তাঁরা আরও জানান, মহামারীর সময়ে একলপ্তে শয়ে শয়ে পরীক্ষার জন্যই কিটটি বানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে মাত্র ১০ মিনিটে ১০০ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা একসঙ্গে করা সম্ভব। এক্ষেত্রেও লালারসের (নেসোফ্যারেঙ্গিয়াল সোয়াব) নমুনা কিটে চাপিয়ে পরীক্ষা হবে। পদ্ধতি সহজ হওয়ায় উচ্চপ্রশিক্ষিতদের দিয়ে টেস্টের প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। ইতিমধ্যে পরীক্ষার কথা প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’র জার্নাল এসিএস ন্যানোতে। আমেরিকাজুড়ে এই টেস্ট কিট দিয়ে কোভিড পরীক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএসএফডিএ’র সঙ্গে বৈঠকেও বসতে চলেছে বিজ্ঞানীদের টিম।