মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সম্ভাবনা বাদ শীর্ষ কোনও মন্ত্রী

মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সম্ভাবনা বাদ শীর্ষ কোনও মন্ত্রী
মোদি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সম্ভাবনা বাদ শীর্ষ কোনও মন্ত্রী

 কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে। বিগত ১০০ দিনের লকডাউনে কোন মন্ত্রকের পারফরম্যান্স কেমন, তার রিভিউ করছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। সেই রিভিউয়ের ভিত্তিতে এবং আগামী দিনে বিহার, বাংলা, অসমের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে কিছু রদবদল করা হবে মন্ত্রিসভায়। সদ্য রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে মন্ত্রী করা হতে পারে। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে, কয়েকজন রাষ্ট্রমন্ত্রী ও পূর্ণ মন্ত্রীর পদে মুখবদল হবে। সবথেকে বড় জল্পনা চলছে অবশ্য সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রী বদলের। এর অর্থ কি সেই সব পদে নতুন মুখ? তা হয়তো নয়। কয়েকজনের মন্ত্রক অদলবদলের সম্ভাবনাও প্রবল হয়ে উঠেছে। বাংলা থেকে নতুন কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন কি না, সে ব্যাপারে যদিও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।
মন্ত্রিসভার রদবদলের সিদ্ধান্ত এবং নতুন মুখের আগমনের বিষয়টি জানেন তিনজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। সম্প্রতি তাঁদের একটি বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের কয়েকজন আধিকারিকও। রবিবার প্রধানমন্ত্রী দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে। যদিও রাষ্ট্রপতি হলেন চিফ কমান্ডার অব আর্মড ফোর্সেস। তাই লাদাখ থেকে ফিরে তাঁকে প্রথা অনুযায়ী সম্ভবত ব্রিফ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাজেট ঘোষণার কোনও প্রস্তাবই নতুন আর্থিক বছরে কার্যকর করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। কারণ, করোনার সংক্রমণ ও লকডাউন। আপাতত শুধুই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজ এবং গরিব কল্যাণ প্যাকেজের সঠিক রূপায়ণে জোর দেওয়ার জন্য মন্ত্রকগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাই বাজেট প্রস্তাব, অথবা বাজেট অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এখনই নেই। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন ডাকার পর আগামী ন’মাসের জন্য একটি আর্থিক রূপরেখা নেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে উদ্ভূত অর্থনৈতিক মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াতেই এখন সবথেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও নীতি আয়োগ জানিয়ে দিয়েছিল। কোন কোন মন্ত্রক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কাজ সবথেকে ভালো করতে পেরেছে, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
করোনার প্রকোপ এবং লকডাউন ঘোষণার আগে-পরে সবথেকে বেশি আলোচনা হয়েছে অর্থমন্ত্রক নিয়ে। কারণ, একের পর এক প্যাকেজ ঘোষণা, আর্থিক ছাড়, কর্পোরেট ও শিল্পমহলকে সুবিধা প্রদানের পরও অর্থনীতির মন্দা ঠেকানো যায়নি। লাগাতার আর্থিক বৃদ্ধির হার কমেছে। আর্থিক ঘাটতির আশঙ্কাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। এই অবস্থায় নির্মলা সীতারামনের পরিবর্তে সরাসরি অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে, এরকম কোনও মুখ অর্থমন্ত্রকে নিয়ে আসা হবে বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সেরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নির্মলা সীতারামনের উপরই আস্থা রেখেছিলেন মোদি। ২০২০-২১ সালের বাজেটও তিনিই ঘোষণা করেন। লকডাউনের সঙ্কটে মোদি সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ অর্থনীতিই। এই অবস্থায় রদবদলের অভিমুখ কী হবে, সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। অক্টোবর মাসে বিহারে ভোট। আগামী বছর বাংলা ও অসমে। সেদিকে তাকিয়ে ওইসব রাজ্যের কিছু মুখ মন্ত্রিসভায় নিয়েই আসতে পারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদি সরকার।
 রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী।