মমতার উদ্যোগে কাল থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু

মমতার উদ্যোগে কাল থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু

উৎসবের মরশুমে বঙ্গবাসীকে ২৫ টাকা কেজি দরে আলুর জোগান দেবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জেলায় জেলায় আগামীকাল, রবিবার থেকে ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রি শুরু হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলু ওঠার সময়ে মাঠে যথেষ্ট দাম ছিল। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময় বলেছিলেন, অক্টোবর-নভেম্বরে আলুর দাম চড়বে। সেই মতো, এই প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে আলু মজুত করার সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন। সমবায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে হিমঘর মালিকদের ঋণ দিয়ে তাঁদের মাধ্যমে সরকার আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। মার্চ মাসের ২২ তারিখ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় আলু মজুত প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও সরকার ৪০ হাজার টন আলু রেখেছিল। সেই আলুই এই অসময়ে সস্তায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যজুড়ে ৩৩৫টি সুলভ বাংলার স্টলে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, নবান্নের তরফে প্রত্যেক জেলাশাসককে কমপক্ষে ২০টি করে অস্থায়ী স্টল খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ৮০০ বেশি স্টল থেকে এই ন্যায্য মূল্যের আলু কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। আগামী সোমবার থেকে প্রত্যেক ক্রেতা ৩ কেজির পরিবর্তে ৪ কেজি করে আলু কিনতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নয়া আলু নীতি প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতীয় স্তরে। সম্প্রতি গুজরাতের প্রতিনিধিরা বঙ্গে এসে এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিযয়ে খোঁজ নিয়েছেন। আগামী মরশুমে মোদির রাজ্যে দিদির দেওয়া টোটকায় আলু মজুত হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি পরামর্শদাতা প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘চলতি বছরে আমাদের ১০ লাখ টন আলু মজুত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লকডাউনের জেরে তা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বছরের গোড়াতেই আলুর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে তাই হচ্ছে।’ কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের সৌজন্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার রাজ্যের যাবতীয় ক্ষমতা চলে গিয়েছে বলেও জানান প্রদীপবাবু। বিকল্প হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে মানুষ আলুর অগ্নিমূল্য থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবে বলে তাঁর আশা।
নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক হিমঘর মালিকদের প্রায় ৬০ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়। মজুত থাকা সেই আলুর বর্তমান বাজারদর প্রায় ৯৫ কোটি টাকা। এই আলু কার্যত সরকারের হাতে থাকায় তা নিয়ে ফাটকাবাজি এড়ানো গেল। না হলে এখনই ৪০-৪২ টাকায় আলু খেতে হতো বলে আশঙ্কা হিমঘর মালিকদের। নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজকোষ থেকে কোনও টাকা খরচ হল না। কিন্তু আলুর মজুতদারির উপর ঘুরপথে নিয়ন্ত্রণ থাকল প্রশাসনের। আগামী বছর আরও আগে থেকে এই পরিকল্পনা করা হবে। যাতে অন্তত হিমঘরে মজুত হওয়া মোট আলুর ১৫ শতাংশের উপর নবান্নের পরোক্ষ রাশ থাকে। এ বছর বঙ্গে প্রায় ৮৫ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টন আলু হিমঘরে মজুত করা হয়েছিল।