রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গের পর নন্দীগ্রামে যেতে পারেন মমতা 

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গের পর নন্দীগ্রামে যেতে পারেন মমতা 

‘প্রার্থী’ তিনিই, নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেখানেই ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল নেত্রী ‘জনসংযোগে’ যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। নেত্রীর আগে দলের রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতারা এলাকায় ঘুরে প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন। আর এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক থাকলে, তাঁদের বায়োডেটা জমা নেওয়া বাক্স বসেছে তৃণমূল ভবনে।
চলতি মাসের ১৮ তারিখে নন্দীগ্রামে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি-ই যদি নন্দীগ্রামে দাঁড়াই, তাহলে কেমন হয়! সুব্রত বক্সিকে বলব, নন্দীগ্রামে যেন আমার নামটা থাকে। স্বয়ং দলনেত্রীর ঘোষণার পর নন্দীগ্রামজুড়ে উচ্ছ্বাসের ছবি ধরা পড়েছে। নেতা-কর্মীরা দৃপ্ত কন্ঠে জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মমতা। এই ঘোষণা থেকে বিজেপি নন্দীগ্রামে আগেই ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে দেওয়াল লিখনে। নন্দীগ্রামে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা আবু তাহের বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে এসে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের ২, ৩, ৪ তারিখ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন বলে খবর। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে রাজ্যে বাজেট অধিবেশনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর। সেই সফর শেষ করে বাজেটের পর নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই জানা গিয়েছে তৃণমূল সূত্রে। এমনকী, নন্দীগ্রামে শুধু জনসভা করে প্রচার নয়, গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গেও মমতা মিলিত হবেন বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রামের প্রচার কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা ও রাজ্য নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়েছে। ফলে বিধানসভা ভোটের গুরুত্ব বিচারে রাজনীতির আতসকাঁচের তলায় এখন নন্দীগ্রাম।
তবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও প্রকাশ হয়নি। কিন্তু রাজ্যে সরকার গঠনের ভোট নিয়ে সরগরম বাংলার রাজনীতি। তারমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর রাজনৈতিক দলগুলিও সাংগঠনিক তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের শাসক দলের সদর কার্যালয়ে বসেছে চারটি বাক্স। একটিতে আসন্ন বিধানসভা ভোটের জন্য প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের বায়োডেটা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা। অন্যটিতে নির্বাচন সংক্রান্ত বন্ড। আর বাকি দুটি বাক্সে নির্বাচনের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি বাক্সে চেক জমা নেওয়া হচ্ছে। অন্যটিতে ক্যাশ বা নগদ। তবে চেক বক্সে লেখা হয়েছে, যিনি অনুদান দিতে আগ্রহী তাঁকে প্যান ও আধার নম্বর দিতে হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, এই বাক্স নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাখা থাকবে।