রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে, নন্দীগ্রামে হুঙ্কার শুভেন্দুর ‘শহিদ স্মরণ’ মঞ্চে নাম না করে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে, নন্দীগ্রামে হুঙ্কার শুভেন্দুর ‘শহিদ স্মরণ’ মঞ্চে নাম না করে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

 নন্দীগ্রাম: নাম নিলেন না। কিন্তু সংঘাতের পথটাই স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারিখটাও যে বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ—১০ নভেম্বর। নন্দীগ্রামে সূর্যোদয়ের ১৩তম স্মরণসভার মঞ্চ থেকেই শুভেন্দুবাবুর হুঙ্কার, ‘লড়াইয়ের মাঠে দেখা হবে, রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে।’
গোকুলনগর হাইস্কুল মাঠের সভা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তাপ এবং জল্পনা বেড়েছে। প্রশ্ন ছিল একটাই, কী ঘোষণা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী? কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ঘোষণা হল না। সেটা শুভেন্দুবাবু তুলে রাখলেন যথাযথ ‘প্ল্যাটফর্মে’র জন্য। তবে দ্বৈরথটা প্রকাশ্যে এল। মুখে না বললেও এই লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ কে, তা এখন বুঝিয়ে দিলেন তিনি। 
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় শুভেন্দুবাবু যখন সভাস্থলে পৌঁছলেন, তখন গোকুলনগর স্কুলমাঠে তিলধারণের জায়গা নেই। মানুষের মধ্যে ছিল প্রবল উচ্ছ্বাস। এদিনের ভাষণে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কাণ্ডারীর গলায় শোনা গিয়েছে সিংহের গর্জন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ভয় পাই না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নন্দীগ্রামে লড়াই করেছি। অনেকের প্রাণের বিনিময়ে এবং মায়ের সম্ভ্রমহানির মধ্যে দিয়ে আমরা লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলাম। আমি এখানে নতুন লোক নই। চেনা বামুনের পৈতে লাগে না।’
রাজনৈতিক জল্পনায় ইন্ধন দিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘আমি কী করব জানতে সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অপেক্ষা করে আছেন। আমার মত কী, পথ কী, আমার চলার পথে কোথায় স্বচ্ছন্দ, কোথায় গর্ত, কোথায় হোঁচট খাচ্ছি, কোন রাস্তায় সহজভাবে হাঁটতে পারব, সেকথা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মেই বলব। এই পবিত্র মঞ্চ কলুষিত করব না।’
তৃণমূলের শহিদ দিবস পালনের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘১৩ বছর পর নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়ছে? ৭ জানুয়ারি সূর্য ওঠার আগে আসবেন তো? ভোটের আগে আসছেন, ভোটের পরও তো আসতে হবে।’ তারপরই বলে ওঠেন, জয় জয় নন্দীগ্রাম। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে চ্যালেঞ্জের সুরেই বলেন, ‘লড়াইয়ের মাঠে দেখা হবে। রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে।’ এদিন বক্তব্য শেষে শুভেন্দুবাবু জয় বাংলা, ভারত মাতা জিন্দাবাদ স্লোগান দেন। তা চর্চায় নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে।
একমাত্র পাঁশকুড়ার বিধায়ক তথা শহিদ জননী ফিরোজা বিবিই সকালে শুভেন্দুবাবুর সভায় এবং বিকেলে হাজরাকাটায় তৃণমূলের শহিদ স্মরণ সভায় হাজির ছিলেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিসে তৃণমূলের সভায় ভালো ভিড় হয়। তবে তা সকালের সভার ধারেকাছে ছিল না। ‘দাদার অনুগামী’ পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, টি শার্টে ছেয়ে গিয়েছিল মাঠ। এত বছরের মধ্যে এই প্রথম। আর হ্যাঁ, ‘শহিদ স্মরণ’ মঞ্চে এদিন শোনা গেল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম... এই প্রথম।