রাজ্যে ফের মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মমতা

রাজ্যে ফের মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মমতা

একুশের নির্বাচনী যুদ্ধ শেষে ফের মা-মাটি-মানুষের সরকারই যে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রত্যয়ী বার্তা তাঁর গলাতেই শোনা গিয়েছে বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি পুজোর উদ্বোধন পর্বের অনুষ্ঠানে। মমতার দীপ্ত বার্তা—আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব। মা-মাটি-মানুষের সরকার এখানে। ফের মানুষের জয় হবে, মাটির জয় হবে। এরপরই পজোর আয়োজন পর্ব এবং তাতে তাঁর সরকারের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে পাশে নিয়ে পুজো করতে হবে। সাধারণ মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুজো বন্ধ করা যায় না। অনেক রাজ্য তা করেছে। অনেক উৎসব ঘরে বসে করা যায়। কিন্তু দুর্গাপুজো জাতীয় উৎসব। পুজো মণ্ডপে বিশ্ব বাংলার আকার নেয়। এখানকার বেশিরভাগ পুজোর উদ্যোক্তা বিভিন্ন ক্লাব-সংগঠন। আবাসনেও পুজো হয়। করোনা আবহে এবার পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লাব-সংগঠনগুলির দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এদিন বারবার এসেছে করোনা প্রসঙ্গ। করোনা ছোঁয়াচ এড়িয়ে সতর্কতার সঙ্গে পুজো করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মাস্ক পরে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বারবার। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে তাঁর অনুরোধ, পারলে মণ্ডপে স্যানিটাইজার রাখুন।
ভার্চুয়ালি পুজো উদ্বোধন পর্ব শুরু করার আগে মমতা হকারদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের কাজ শুরু করেন। এদিন পাঁচজন হকারের হাতে ২হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কলকাতার ৬৮ হাজার সহ রাজ্যের মোট এক লক্ষ হকার বন্ধুরা পাবেন এই বিশেষ ভাতা। দ্রুত সেই অর্থ তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর জেলাওয়াড়ি পুজো উদ্বোধন পর্ব শাঁখ বাজিয়ে ও ঘণ্টাধ্বনি করে সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্ন থেকে ১২টি জেলার মোট ১১০টি পুজো উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন পর্ব শেষে চণ্ডীস্তোত্র পাঠ করেন মমতা।
জেলাগুলির পুজোর স্থলে পুলিস ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দেখে অনেকেরই নাম উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট জেলার পুজো উদ্বোধন পর্বে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন করোনায় মৃত তিন বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ, গুরুপদ মেটে এবং সমরেশ দাসের কথা। হাবড়ায় একটি পুজোর উদ্বোধন মঞ্চে খাদ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর শরীর কেমন আছে জানতে চান মমতা। বরানগরের একটি পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাপস রায়ের করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো উদ্বোধন করেন মমতা। বলেন, সুজিত ওখানে যেতে বলেছিল। কিন্তু, আমি এবার কম পুজোতেই যাচ্ছি।