রামায়ণে করোনার উল্লেখ! বাদুড়ের নাম আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা

রামায়ণে করোনার উল্লেখ! বাদুড়ের নাম আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা

 

কোভিড-১৯-এর প্রকোপ ভারতে শুরু হতেই বিভিন্ন ইতিহাস-পুঁথিতে করোনা ভাইরাসের উল্লেখ রয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। আর করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন টালমাটাল জনজীবন, তখন মারণ ভাইরাসের সঙ্গে জুড়ে গেল মহাকাব্য রামায়ণের নাম। তুলসীদাস নাকি তাঁর রামায়ণে করোনা ভাইরাসের উল্লেখ করেছেন!
হিন্দি ভাষায় রামায়ণ অনুবাদ করেন তুলসীদাস। সেই রামচরিতমানসেই তুলসীদাস নাকি করোনা মহামারীর ভবিষ্যত্‍বাণী করেছিলেন। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। আসলে গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বাদুড়। আর সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই জল্পনা। রামায়ণের একটি দোহায় তুলসীদাস বাদুড়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগের উল্লেখ করেছেন। এখান থেকেই যত চর্চার সূত্রপাত। 

তুলসীদাসের রামচরিতমানসের যে দোহাটিকে ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে, স্যোশাল মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট পাতাটির ছবিও আপলোড করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, এটি রামচরিতমানসের ১২০ নম্বর দোহার কয়েকটি চরণ। সেখানে বলা হয়েছে, "যে সব বোকা মানুষ সকলের নিন্দা ও সমালোচনা করে বেড়ান, তাঁরা পরের জন্মে বাদুড় হয়ে জন্মান। আর এদের থেকে অসুখ ছড়িয়ে পড়ে, যা সকলের দুঃখকষ্টের কারণ হয়।" এখানেই শেষ নয়। এই অসুখটি সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে ''বায়ু, পিত্ত ও কফ একসঙ্গে মিলে খুব জ্বর আসবে। অসুখটি সহজে ছেড়ে যাবে না এবং বহু মানুষের যন্ত্রণার কারণ হবে।"

আসলে চীনে প্রথম বাদুড় থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হয়। আর যেহেতু এই রোগে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং কফ তথা নিউমোনিয়া দেখা যায়, তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া জল্পনা খাপে খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর সে কারণেই অনেকের ধারণা, রামচরিতমানসে উল্লিখিত এই রোগটি করোনা ভাইরাসেরই পূর্বাভাস। যদিও, রামায়ণ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসুখকে করোনা ভাইরাস জনিত অসুখ বলে মনে করার কোনও কারণ নেই।