লক্ষ্য সীমান্তে মাদক কারবার বন্ধ করা রাজ্যের এন্ট্রি পয়েন্টগুলিতে নজরদারি চালাবে গোয়েন্দারা

লক্ষ্য সীমান্তে মাদক কারবার বন্ধ করা রাজ্যের এন্ট্রি পয়েন্টগুলিতে নজরদারি চালাবে গোয়েন্দারা

সিবিআই তৎপর হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ থেকে বাংলাদেশে গোরু পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার মাদক কারবারেও রাশ টানতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। এতদিন ক্যারিয়ারদের গ্রেপ্তার করেই দায় সারা হতো। মূল চক্রীর কাছে পৌঁছনো যেত না। কিন্তু এই কারবার সমূলে উৎখাত করতে এবার ‘মাথা’দের টার্গেট করেছে গোয়েন্দারা। রাজ্যে কুখ্যাত মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করে তা দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরাজ্যের উত্তর ২৪পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদের কয়েকজন কারবারি ছাড়াও ওড়িশা, বিহার এবং মণিপুরের কয়েকজন মাদক চক্রের পাণ্ডা গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। বিহারের ওই কারবারি গোরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাই সে সিবিআইয়েরও নজরে রয়েছে। তাদের সঙ্গে আর কারা মাদক কারবারে জড়িত রয়েছে সেটাও আধিকারিকরা খতিয়ে দেখে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠাবেন।
প্রসঙ্গত, মালদহ, মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় আইবি, এনআইএ ছাড়াও অন্য আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থাও অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তারাই মূলত মাদক কারবার নিয়ে ইনপুট সংগ্রহ করছে। এক আধিকারিক বলেন, হেরোইন ছাড়া সমস্ত মাদকদ্রব্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে আসে। নিয়ম অনুযায়ী অন্য রাজ্য লাগোয়া জেলাগুলির সীমানায় নাকা চেকিং করা উচিত। অনেক সময় তা হয়ও। কিন্তু তারপরও কীভাবে ইয়াবা, গাঁজা, চরস জাতীয় মাদকদ্রব্য এরাজ্যে ঢুকছে সেটাই বোঝা যায় না। সেই কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের এন্ট্রি পয়েন্টগুলিতে এবার থেকে গোয়েন্দারাও নজরদারি চালাবে। সেটা করতে আইনে কোনও বাধা নেই বলে গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিকের দাবি।
ওড়িশা, সিকিম এবং মণিপুর থেকে মূলত গাঁজা এরাজ্যে আসে। মণিপুর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটও আসছে। এছাড়া ট্রাকে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যে নিষিদ্ধ সিরাপ মালদহ-মুর্শিদাবাদের সীমান্তে আসে। বাংলাদেশে এখন ইয়াবা এবং ওই সিরাপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নেশার দ্রব্য রাজ্যে ঢোকার আগেই যাতে বাজেয়াপ্ত হয় তার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি স্থানীয় প্রশাসনেরও সহযোগিতা নেবে। তাদের দাবি, গাঁজা, হেরোইন, চরস সীমান্তে চলে এলে নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পাটজমি, কলাবাগান বা অন্য কোনও ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে ক্যারিয়াররা সেগুলি লুকিয়ে রাখে। ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে সেগুলি সীমান্ত পার করতে তাদের তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু সেগুলি সীমান্তে আসতে না দেওয়া হলে আর তা বাংলাদেশে পাচার করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের মাদক কারবার বন্ধের জন্য হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এত তৎপর হয়ে উঠল কেন? এক আধিকারিক বলেন, গোরু পাচার বন্ধ হয়ে গেলে স্মাগলাররা মাদক পাচারের জন্য উঠেপড়ে লাগে। মাদক কারবারেও দিনে কোটি কোটি টাকা আয় হয়। সেই টাকার একটা অংশ জঙ্গি সংগঠনগুলির ফান্ডে যায়। বিশেষ করে জেএমবি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারিদের সহযোগিতা নিয়ে আসছে। সম্প্রতি এনআইএ আল-কায়েদা জঙ্গি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের দশজনকে গ্রেপ্তার করে জানতে পেরেছে, তাদের তহবিলও পাচারকারীদের কাছ থেকে আসে। সেই কারণেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিএসএফের ডিআইজি কুণাল মজুমদার বলেন, পাচারকারীরা মাদক নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল নিলেও আমাদের বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, একমাসের মধ্যে বিএসএফ জলঙ্গি, রানিনগর, সামশেরগঞ্জ এলাকায় প্রচুর পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচারকারীরা অধরা থেকে গিয়েছে। বিএসএফের দাবি, অন্ধকার এবং ঝোপ-জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে ভালোই হবে।