শুয়ে-বসে ফুসফুসের জোর বাড়ান

শুয়ে-বসে ফুসফুসের জোর বাড়ান

এখন বিশ্বজুড়ে প্রত্যেকটি মানুষের একটিই চাহিদা। ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ানো। এদিকে বাড়ি থেকে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বেরনো যাচ্ছে না। ঘরের ভিতর শুয়ে-বসেই কেটে যাচ্ছে সময়। এমনকী অফিস কাছারির কাজও করতে হচ্ছে ঘরে বসে! ফলে এক্সারসাইজ তো করাই হচ্ছে না অনেকের। ফুসফুস রয়েছে তার আগের দুর্বল অবস্থাতেই। তবে জানলে অবাক হবেন, শুয়ে বসেও ফুসফুসের জোর বাড়ানো যায়! মানে শুয়ে আর বসে এমন কিছু ব্যায়াম করা যায় যার দ্বারা ফুসফুসের জোর বাড়ে!
বসে বসে ব্যায়াম
ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউট-এর চিকিৎসক ডাঃ অলোকগোপাল ঘোষাল জানাচ্ছেন, বসে থাকার সময় লম্বা শ্বাস টেনে নিন। কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। ফের ধীরেসুস্থে শ্বাস ছাড়ুন। বসে বসে এই ব্যায়াম করলেও ফুসফুসের প্রভূত উন্নতি হয়। দিনের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় বারতিনেক এই ধরনের ব্যায়াম করতে পারলে লাং ফাংশন উন্নত হয়। কারণ, আমাদের ফুসফুসের একেবারে নীচের অংশের অ্যালভিওলাসগুলি বা বায়ুকুঠুরিগুলি কোষ–কলার চাপে সংকুচিত হয়ে থাকে। প্রসারিত হওয়ার বিশেষ সুযোগ পায় না। এই অংশটিকে মাঝে মধ্যে ফোলানো খুব জরুরি। কারণ কফ হলে তা বুকের নীচের দিকেই জমে যায়। ফুসফুসের ওপরের অংশের মতো নীচের দিকের অংশও সমান কার্যকর থাকলে বিভিন্ন সংক্রমণের সঙ্গে সহজে লড়া সম্ভব হবে।
শুয়ে শুয়ে ব্যায়াম
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যোগা ও ন্যাচেরোপ্যাথি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও যোগ বিশারদ তুষার শীল জানাচ্ছেন শুয়ে শুয়েও ব্যায়াম করা যায়। বিশেষ করে যাঁদের খুব বেশি বয়স এবং হাঁটুর ব্যথায় ভোগেন তাঁরাও এই ব্যায়াম করতে পারেন। শুয়ে শুয়ে ব্যায়াম করার জন্য মেঝের উপর সতরঞ্চি বা মাদুর পেতে দিন। চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দু’টি শরীরের পাশে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকবে। পা থাকবে সোজা। এবার ধীরে ধীরে পা দু’টিকে ভাঁজ করুন। অর্থাৎ শুয়ে থাকা অবস্থায় হাঁটু দু’টি উঁচু হয়ে থাকবে পাহাড়ের মতো। এবার এভাবে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই হাত দু’টিকে মুঠো করে বুক বরাবর শিলিং-এর দিকে তুলে ধরুন। এবার নাক দিয়ে শ্বাস নিতে নিতেই দু’হাতকে শরীরের দু’পাশে পাখির ডানার মতো প্রসারিত করে মাটি বরাবর নামিয়ে নিন। ফের মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বুক বরাবর শিলিং-এর পানে হাত উঠিয়ে নিয়ে আসুন।
মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ বার এইভাবে হাত মোড়া ও প্রসারিত করতে পারলেই হবে। ইচ্ছে হলে আরও বেশি সময় ধরে করতে পারেন।
প্রশ্ন হল কোন কোন পেশির উপকার হবে এই ব্যায়ামে?
শ্বাসকার্যে সাহায্যকারী পেশিগুলি, যেমন ডায়াফ্রাম, এক্সটারনাল ইন্টারকস্টাল, ইন্টারনাল ইন্টারকস্টালেরও কাজ হবে। অর্থাৎ পাঁজরের মধ্যে হাড়ের মাঝে যে পেশিগুলি আছে সেগুলি শক্তিশালী হবে। এছাড়া কাঁধের পেশিগুলি যেমন ট্র্যাপিজিয়াস, স্কেলিনি, গলার কাছে স্টারনোক্লিডোম্যাসটয়েড পেশি, বুকের পেশি পেকটরলিস মাইনর, লিভেটর স্ক্যাপুলা বা কাঁধের দু’দিক থেকে ঘাড়ের দু’দিকে যে পেশি উঠে গেছে সেই পেশিও শক্তিশালী হয়। যাঁরা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই ব্যায়াম সহায়ক প্রমাণিত হতে পারে।
তবে হ্যাঁ, শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না। দুই বিশেষজ্ঞই বলছেন, আজই ছাড়তে হবে ধূমপানের মতো কু-অভ্যেস। নইলে ব্যায়াম করেও ফুসফুসকে সবল করা যাবে না!