সুন্দর স্বাস্থ্য পেতে নতুন বছর কী কী করবেন?

সুন্দর স্বাস্থ্য পেতে নতুন বছর কী কী করবেন?

 

বিদায় নিচ্ছে ২০২০। বিশ্বের কাছে বছরটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যার কেন্দ্রে ছিল নভেল করোনা ভাইরাস। কোটি কোটি মানুষ ভাইরাসের কবলে পড়েছে। স্বজনহারা হয়েছে কত পরিবার। অন্যদিকে লকডাউনের কবলে পড়ে ধুঁকছে অর্থনীতি। জীবিকা হারিয়েছে বহু মানুষ। এত খারাপের মধ্যেও এই ভাইরাস অনেক শিক্ষাও দিয়েছে। চিকিৎসা জগৎ বা সাধারণ মানুষ কেউই এই ধরনের অতিমারীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না। করোনা সমাজকে একটি নতুন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। দিয়েছে কঠিনতম সঙ্কটে লড়াই ও নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আমাদের নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্বন্ধে সচেতন হয়ে পরিবর্তন আনতে হবে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে। জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী পরিবর্তন আনা জরুরি—
 ব্যায়াম করুন— অলস শরীর রোগের বাসা। এই আপ্তবাক্যটিকে স্মরণে রেখে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। শুরু করুন আজ থেকেই। অন্তত সপ্তাহে পাঁচদিন ৩০ মিনিট করে। ব্যায়াম করতে না চাইলে একই সময় হাঁটতে পারেন। রোগ দূরে থাকবে। শরীর থাকবে ফুরফুরে।
 খাদ্যাভ্যাস বদলান— খাদ্যতালিকা থেকে তেল ও ভাজাভুজি যতটা সম্ভব বাদ দিন। টাটকা ফল, শাকসব্জি, মাছ, ডিম, মাংস খান। খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাটের সমতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
 ঘুম চাই— পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে নানা সমস্যা বাসা বাঁধতে পারে। তাই দিনে অন্তত পক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুম চাই।
 নেশা ছাড়ুন— সিগারেট, বিড়ি, খৈনি বা অন্যান্য তামাকজাত পদার্থের নেশা ক্যান্সার সহ অন্যান্য দূরারোগ্য ব্যাধি ডেকে আনতে পারে। তাই নতুন বছরে নেশা ছাড়ুন।
 নিয়মিত রোগ পরীক্ষা করান— প্রেশার, সুগারের বা ক্রনিক রোগ থাকলে প্রথম থেকেই সচেতন থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো রোগপরীক্ষা করান। বছরে একবার সকলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নানা ধরনের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেখে নিতে পারেন।
 নিয়মিত ওষুধ খান— সুগার, প্রেশার, নার্ভের সমস্যা, কিডনির সমস্যা বা অন্য কোনও রোগের কারণে রোজকার ওষুধ নিয়ম মেনে রোজ খেতে হবে। কোনও কারণে ওষুধ বন্ধ করবেন না। এমনকী চিকিৎসককে না জিজ্ঞেস করে ওষুধের ডোজও বদলাবেন না।
 টিকা নিতে হবে— টিকার মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এখন সদ্যোজাত থেকে বয়স্ক— প্রায় সকল বয়সের জন্যই নির্দিষ্ট টিকা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেগুলি নিন।
 করোনা সচেতনতা— ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বস্তির। কমেছে দৈনিক আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে অন্যান্য কিছু দেশে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু হয়েছে। এইসবের মাঝেই ব্রিটেনে করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেনের খোঁজও মিলেছে। সেই স্ট্রেন ছড়িয়েছে অন্যত্রও। সবমিলিয়ে করোনা এখনও বিশ্ব বা বাংলা—কোনও জায়গা থেকেই বিদায় নেয়নি। তাই কোভিড নিয়ে ছেলেখেলা করলে চলবে না। মানতে হবে কোভিড নিয়ম। মাস্ক পরুন, স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, বারবার সাবান-জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। আর ঢিলেমি দিতে শুরু করলে সংক্রমণ বাড়বে। তবে আমাদের সামনে ইতিমধ্যেই আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন। সেই ভ্যাকসিন ব্যবহার করে এই মহামারীকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।