সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ লকডাউন গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় কঠোর রাজ্য

সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ লকডাউন গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় কঠোর রাজ্য
সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ লকডাউন গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় কঠোর রাজ্য

দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরুর লক্ষণ স্পষ্ট। গতকালই জানিয়েছিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। সেই আশঙ্কায় ক্রমবর্ধমান  করোনা সংক্রমণের ‘শৃঙ্খল’ ভাঙতে সোমবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে গোটা রাজ্যে জারি হবে ‘কমপ্লিট’ লকডাউন। গত মার্চ মাসের মতোই কঠোর বিধিনিষেধের গণ্ডি থাকবে এই পর্বে। চলতি সপ্তাহে সম্পূর্ণ লকডাউন হবে আগামী বৃহস্পতি এবং শনিবার। পরবর্তী সপ্তাহে বুধবারকে এর জন্য আগাম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আগামী সোমবার প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার পর লকডাউনের আর একটি দিন ধার্য করা হবে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন করে লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও বিরোধীদের মতে, নবান্নের এই সিদ্ধান্ত ‘আজব ও অবৈজ্ঞানিক’। বিবৃতি দিয়ে সংক্রমণের জন্য সরকারের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করেছেন বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
আলাপনবাবু আরও জানান, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ধিত কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন এখন যেমন চলছে, তেমনই চলবে। তার সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে দু’দিনের এই সম্পূর্ণ লকডাউন। গোটা রাজ্যেই এই দু’দিন অফিসকাছারি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ এবং জরুরি নয় এমন সব পরিষেবা বন্ধ থাকবে। আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত আপাতত এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। নতুন লকডাউন বিধি যে আগামী মাসেও চলবে, সেই ইঙ্গিত মিলেছে স্বরাষ্ট্র সচিবের কথায়। তিনি বলেন, আগস্ট মাসে বৈঠক করে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১৭ জুলাই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে চিঠি দিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল। তিনি প্রতি সপ্তাহে ১ শতাংশ করে মৃত্যুহার কমানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বেশি সংখ্যক করোনা পরীক্ষা, হাসপাতালের শয্যার সঠিক ব্যবহার এবং হেল্পলাইন নম্বরের বন্দোবস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার সেবিষয়ে ব্যবস্থা নিলেও কেন্দ্রের ভূমিকায় একেবারেই সন্তুষ্ট নন আইএমএর রাজ্য সম্পাদক তথা তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্র আইসিএমআরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। সেটা হলে অনেক আগেই তারা গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিত।’ দেশবাসীর জীবন আগে, না নিজেদের পিঠ বাঁচানো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শান্তনুবাবু।
এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট থেকে আমাদের ধারণা, কিছু কিছু এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এদিনের বৈঠকেও বিশেষজ্ঞরা সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যদপ্তরও।’ সেই সব খতিয়ে দেখেই সপ্তাহে দু’দিন লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এদিন বেশ কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র
সচিব বলেন, স্বাস্থ্য ভবনে ১৮০০৩১৩৪৪৪২২২ এবং ০৩৩-২৩৪১২৬০০— এই দু’টি ইন্টিগ্রেটেড হেল্পলাইন চালু হয়েছে। এর এক একটি নম্বরের সঙ্গে ৬০টি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, করোনা সংক্রান্ত যে কোনও পরামর্শের জন্য টেলিমেডিসিনের একটি নম্বর, ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
চালু হচ্ছে। বৃহত্তর কলকাতায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে থাকছে ০৩৩-৪০৯০২৯২৯ টেলিফোন নম্বরটি।
এসব ছাড়াও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, সেফ হোম এবং অক্সিজেন সহ অন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আলাপনবাবুর কথায়, রাজ্যে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে জটিল রোগীর শতকরা হার ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অপেক্ষাকৃত ভালো রোগীর ক্ষেত্রে এই হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বাকি ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশ আক্রান্ত উপসর্গবিহীন। তাঁরা হোম আইসোলেশন অথবা সেফ হোমে থেকে সুস্থ হচ্ছে