স্বাস্থ্যদপ্তরের নামে অনলাইন প্রতারণা রাজ্যে সক্রিয় ভুয়ো নিয়োগ চক্র, ধৃত ১

স্বাস্থ্যদপ্তরের নামে অনলাইন প্রতারণা রাজ্যে সক্রিয় ভুয়ো নিয়োগ চক্র, ধৃত ১

স্বাস্থ্যদপ্তরে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রচুর নিয়োগ। গ্রুপ-ডি পদে। কোনও পরীক্ষা নেই। সরাসরি চাকরি। কাগজপত্র নিয়ে সোজা চলে আসতে হবে স্বাস্থ্যভবনে। তবে হ্যাঁ, আসার আগে করতে হবে একটা ছোট্ট কাজ। একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। ব্যস, সরকারি চাকরি হাতের মুঠোয়। চাকরি পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বেকাররা পা দিয়ে ফেলছেন এই ফাঁদেই।
করোনা মোকাবিলায় সত্যি সত্যিই প্রচুর নিয়োগ চলছে স্বাস্থ্যদপ্তরে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তেরই সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণীর প্রতারকরা। রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে গ্রুপ-ডি পদে চাকরির টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারণা চক্র। গোটা করোনা পর্বেই এদের রমরমা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার ছেলেমেয়ের ই-মেল এবং এসএমএস জোগাড় করাটুকু যা ঝক্কি। তারপর এই দুই মাধ্যমেই পৌঁছে যাচ্ছে চাকরির এই টোপ। প্রতারকরা যে স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রচুর নিয়োগের সুযোগ নিচ্ছে, তা মেনে নিয়েছেন নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা।
স্বাস্থ্যদপ্তরে নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান তাপস মণ্ডলও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে অফলাইনে ৪৪টি চাকরির আবেদন জমা পড়েছিল বোর্ড অফিসে। যা ছিল সম্পূর্ণ জাল। আবেদনপত্রগুলির পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দায়ের হয়েছে এফআইআরও। পুরুলিয়ায় গ্রুপ-ডি চাকরির নাম করে এক প্রার্থীর থেকে তিন লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল।’ তাঁর কথায়, বোর্ডের লোগো এবং সচিবের সই জাল করে প্রার্থীদের কাছে গ্রুপ-ডি চাকরির প্রতিশ্রুতি পাঠাচ্ছে প্রতারকরা। সাধারণ মানুষের পক্ষে যা ধরা অসম্ভব।
চেয়ারম্যানের দাবি, পরীক্ষা ছাড়া স্বাস্থ্যদপ্তরে একটিও নিয়োগ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড করে না। গোটা প্রক্রিয়া হয় অনলাইনে। স্বাস্থ্যদপ্তরে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জানতে বোর্ডের ওয়েবসাইট www.wbhrb.in  যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তাপসবাবু।
গত ৩০ আগস্ট ব্যক্তিগত ই-মেলে এমন চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন হাওড়ার বাসিন্দা অজয় পাল। তাতে লেখা ছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে তাঁকে গ্রুপ-ডি পদের জন্য প্রাথমিক বাছাই করা হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে মাধ্যমিকের রেজাল্ট ও অ্যাডমিট নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কিংবা এসএসকেএমে গ্রুপ-ডি পদে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা পাকা। তবে সেজন্য ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে ৭ লক্ষ টাকা। রাজ্য পুলিসের এক কর্তা জানান, এই সংক্রান্ত বহু অভিযোগ আসছে। এর পিছনে একাধিক ভিন রাজ্যের প্রতারণা চক্র জড়িত আছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।